চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর-০৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল পদ্মা নদীর তীরে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে তার ১০৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ ও প্রশাসনিক সংস্কারকে নির্বাচনী এজেন্ডার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবী এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নদীকেন্দ্রিক এই আয়োজনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, দিয়াড় অঞ্চল এবং অবহেলিত জনপদের বাস্তবতা সরাসরি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ইশতেহারে নুরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর জেলায় রূপান্তরের ঘোষণা দেন। এতে দারিদ্র্য দূরীকরণ, তরুণ ও নারীদের জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা, সুদবিহীন কৃষিঋণ প্রদান, শিল্প-কারখানা ও ইপিজেড স্থাপন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
এছাড়া পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়ন এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। পদ্মা নদীতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, অবহেলিত দিয়াড় অঞ্চল নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠন এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ঘোষণাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইশতেহারে তিন মাসের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও সেবামূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ এলাকা গঠনের অঙ্গীকার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০৫ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এই জনতার ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব প্রতিশ্রুতি অগ্রাধিকারভিত্তিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য ও সম্ভাবনাময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ে তোলা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা নদীর তীরে ইশতেহার ঘোষণার আয়োজনটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। নদীভাঙন, দিয়াড় অঞ্চল ও যোগাযোগ সংকট-এই আসনের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির কৌশল হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে। কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা স্পষ্ট।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১০৫ দফা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করবে রাজনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন ভোটার জানান, নদীভাঙন রোধ ও দিয়াড় উপজেলা গঠনের ঘোষণা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, “পদ্মার ভাঙনে আমরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। স্থায়ী বাঁধ হলে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।” অন্যদিকে তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান ও কারিগরি শিক্ষার প্রতিশ্রুতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্ক প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
এসকে/টিকে