কানাডার একটি ক্যাফের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর কেটে গেছে প্রায় এক বছর। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি কপিল শর্মার জীবন থেকে। তবু হাসির মানুষটি আবারও মঞ্চে ফিরছেন নিজের স্বভাবসুলভ রসবোধ নিয়ে। সম্প্রতি তাঁর জনপ্রিয় হাস্যরসের অনুষ্ঠানের নতুন পর্ব ঘোষণার মঞ্চেই আচমকা উঠে এল সেই পুরোনো আতঙ্কের প্রসঙ্গ। সরাসরি নাম উচ্চারণ না করেও কুখ্যাত গ্যাংস্টারের ইঙ্গিতপূর্ণ উল্লেখ করে কৌতুকেই জবাব দিলেন কপিল, আর তাতেই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বছর দেড়েক আগে বলিউড তারকাদের উদ্দেশে একের পর এক হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। অভিনেতা সালমান খানের বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণ থেকে শুরু করে পরিচালক রোহিত শেট্টির বাড়ির বারান্দায় গুলি ছোড়া—সবকিছু মিলিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল তারকাজগতে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিল কপিল শর্মার নামও। কানাডায় তাঁর খোলা ক্যাফের সামনে গভীর রাতে দফায় দফায় গুলি চালানোর দায় স্বীকার করেছিল ওই কুখ্যাত গ্যাংস্টার। ব্যবসা বন্ধ না করলে মুম্বাইয়ে গিয়ে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
এই সবকিছুর মাঝেই নতুন অনুষ্ঠানের ঘোষণার মঞ্চে এক উচ্চপদস্থ কর্তার মন্তব্য ছিল, দেশের নজর তো বহুদিন ধরেই কপিলের উপর। সেই কথার জবাবে কপিল হেসে বলেন, এখন নাকি এক-দু’টি দেশের গ্যাংস্টারও তাঁর পিছু নিয়েছে। কথাটি ছিল নিছক রসিকতা, কিন্তু তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক তিক্ত অভিজ্ঞতার ছায়া। উপস্থিত দর্শকের হাসির মধ্যেও যেন টের পাওয়া যাচ্ছিল সেই অস্বস্তির স্মৃতি।
কানাডায় ব্যবসা শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই যে এমন হামলার মুখে পড়তে হবে, তা হয়তো ভাবেননি কপিল। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে টানা গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল চারপাশে। প্রথমে এক উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য দায় স্বীকার করলেও পরে সামনে আসে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। এরপর একাধিকবার হুমকি পেয়েছেন কপিল। তবু কাজ থামিয়ে রাখেননি। নতুন ছবি মুক্তি পেয়েছে, আবারও ফিরছেন নিজের হাসির মঞ্চে। ভয় আর রসিকতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কপিল শর্মা যেন দেখিয়ে দিলেন, হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
পিআর/টিকে