বিশ্বজুড়ে জেফ্রি এপস্টেইন কাণ্ডে ফের আলোচনায় যৌন নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার আর শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন। সেই তোলপাড় আবহেই মুক্তির মুখে জয়া আহসান অভিনীত ছবি ‘ওসিডি’। ছবির মুক্তির আগে এক খোলামেলা কথোপকথনে পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল স্পষ্ট জানালেন, ‘মিটু’ আন্দোলন নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, শিশুদের প্রতি যৌন বিকৃতি বা পিডোফেলিয়া নিয়ে ততটা কথা বলা হয় না আর সেই নীরবতাই ভাঙতে চেয়েছেন তিনি।
সৌকর্যের কথায়, এই ছবির জন্ম বহুদিনের ভাবনা থেকে। শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর অদেখা আতঙ্ক এসব নিয়েই গল্প বুনেছেন তিনি। বোর্ডিং স্কুলে শিক্ষকতা করার সময়ে কিছু ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেখান থেকেই বিষয়টি মাথায় আসে। তাঁর মতে, রূপকথা বা ফ্যান্টাসির নরম দিক যেমন আছে, তেমনই শিশুদের জীবনের কঠিন বাস্তবও দেখানো প্রয়োজন। আর সেই বাস্তবের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এমন কিছু ভয়, যেগুলো সমাজ সচরাচর এড়িয়ে যেতে চায়।
ছবিটি মুক্তিতে দেরির কারণও জানালেন পরিচালক। নিজস্ব প্রযোজনায় তৈরি হওয়ায় বিতরণ, হল পাওয়া এবং জয়া আহসানের ভিসা সমস্যাসহ একাধিক জটিলতায় আটকে ছিল মুক্তি। তবু তিনি আশাবাদী, কারণ তাঁর বিশ্বাস একটি ছবি দীর্ঘমেয়াদে দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পারলে তবেই তার সাফল্য। কেবল প্রথম সপ্তাহের বক্স অফিস নয়, দর্শকের সঙ্গে সংযোগই আসল শক্তি।
জয়া আহসানকে বারবার বেছে নেওয়ার কারণও স্পষ্ট করেছেন সৌকর্য। তাঁর মতে, এই ছবির চরিত্রে বহু স্তর, মানসিক টানাপোড়েন এবং ক্লান্তিকর অভিনয়ের প্রয়োজন ছিল। অল্প সময়ে শুটিং, শিশু শিল্পীদের সঙ্গে সমন্বয় সব মিলিয়ে এমন একজন অভিনেত্রীর দরকার ছিল যিনি গভীরতা বুঝতে পারবেন এবং চরিত্রকে ন্যায়বিচার করতে পারবেন। ‘ভূতপরী’ ছবির পর থেকেই সেই বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল।
সৌকর্য আরও বলেন, এখন সিনেমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিনোদন নয়, দর্শককে জড়িয়ে রাখা। ছবিতে সহিংসতা থাকুক বা না থাকুক, মূল কথা হলো দর্শক কতটা যুক্ত থাকছেন। সেই সংযোগ তৈরি করতে পারলেই ছবি বেঁচে থাকে। ‘ওসিডি’ নিয়েও তাঁর প্রত্যাশা সেখানেই বিতর্কিত বিষয় হলেও যদি দর্শক গল্পের সঙ্গে যুক্ত হন, তবে ছবিটি নিজের জায়গা করে নেবে।
পিআর/টিকে