টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে আইনি পদক্ষেপ নেবে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জিও স্টার। কৌশলগত কারণে এই প্রক্রিয়ায় নাম যুক্ত হতে পারে আইসিসির'ও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন খবর দিয়েছে পিসিবির একটি সূত্র। তবে কঠোর না হয়ে এখনো সমঝোতার পথে হাঁটছে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে না খেললে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জিও স্টার। সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে আটকে দেয়া হবে পাকিস্তানের বার্ষিক রেভিনিউ বন্ধ করে দেবে আইসিসি, এমন খবরে সয়লাব ভারতের গণমাধ্যম। এবার আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইভেন্ট সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান।
ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি পিসিবিকে বিপাকে ফেলতে মামলা করতে পারে মুকেশ আম্বানির জিও স্টার। এ মামলায় সম্পৃক্ত করা হতে পারে আইসিসিকেও। কারণ সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো চুক্তি নেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। তাদের এই আর্থিক ক্ষতির পুরোটাই বর্তায় আইসিসির ওপর। জিও স্টার শেষ পর্যন্ত কৌশলগত কারণেই এ পথে হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পিসিবি সূত্র।
আইসিসি সব ইভেন্টের জন্য সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যখন চার বছরের চুক্তি করে সেই চুক্তিতে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার ভিত্তিতেই সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান আইসিসিকে অর্থ প্রদান করেছে। সুতরাং চুক্তি ভঙ্গ হওয়ায় পিসিবি ও আইসিসিকে আদালতে তোলার অধিকার আছে তাদের।
পিসিবিকে আইনি বাধ্যবাধকতায় ফেলতে নানা রকমের কৌশল হাতে নিয়েছে আইসিসি। এখানে অস্ত্র হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেট ব্যবহার করছে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানকে। তবে এটা ঠিক, সত্যিই যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পক্ষে অবস্থান ধরে রাখে, তবে আইনি দিক থেকে ব্যাকফুটে চলে যাবে মহসিন নাকভির বোর্ড।
ভারতের বিপক্ষে না খেলার বিষয়ে সরকারের নির্দেশ থাকলেও পিসিবি সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলছে। ভারত সরকার তাদের দলকে পাকিস্তানে খেলার অনুমতি না দিলেও এশিয়া কাপ কিংবা আইসিসি ইভেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে কখনোই বাধা দেয়নি। এমনকি মে মাসের সংঘাতের পরও এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি ভারত।
এদিকে, আইনি পদক্ষেপ নেয়ার আগে এখনো সমঝোতার চেষ্টায় আছে আইসিসি। পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলাতে রাজি করাতে আইসিসির ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এসএস/টিএ