জাপানের উত্তরাঞ্চলে রেকর্ডভাঙা তুষারপাতের ফলে দেশজুড়ে অন্তত কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, তাপমাত্রা বাড়লে নতুন করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জাপানে তুষার-সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪০০ জন আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে ১২৬ জনের অবস্থা গুরুতর। নিহতদের বেশির ভাগই নিজেদের বাড়ির ছাদ বা আশপাশের জায়গা থেকে বরফ পরিষ্কার করতে গিয়ে পড়ে যান।
ভারি তুষারপাতের কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বিদেশি পর্যটকরাও আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার হোক্কাইডোর নিসেকোতে স্কিইং করার সময় পড়ে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ২৭ বছর বয়সী এক যুবক মারা যান। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি তার নাম জানিয়েছে মাইকেল হার্স্ট।
এর কয়েক দিন আগেই নাগানো প্রিফেকচারের একটি রিসোর্টে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ২২ বছর বয়সী এক তরুণী মারা যান।
অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমের মতে, ব্রুক ডে নামের ওই তরুণীর ব্যাকপ্যাক স্কি লিফটে আটকে গেলে তিনি মাঝআকাশে ঝুলে পড়েন এবং সেখানেই প্রাণ হারান।
গত দুই সপ্তাহে রিপোর্ট হওয়া বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাপান সাগরের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে। আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা ঠাণ্ডা বায়ুপ্রবাহের কারণে সেখানে অস্বাভাবিক মাত্রার তুষারপাত হচ্ছে।
চলতি শীতে জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ১৫টিতে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
কোথাও কোথাও বরফের স্তর ৬.৫ ফুট (প্রায় ২ মিটার) পর্যন্ত জমেছে। এতে আওমোরি প্রিফেকচারে ১,৭০০-এর বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ ট্রেন ও বুলেট ট্রেন চলাচল বাতিল করতে হয়।
নিইগাতা প্রিফেকচারে তুষার-সম্পর্কিত ১২টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একজনকে তার বাড়ির ছাদে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, আর ৭০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের প্রধান সরকারি মুখপাত্র মিনোরু কিহারা বলেন, বরফ গলতে শুরু করলে তুষারধসের ঝুঁকি বাড়বে এবং রাস্তা ও অন্যান্য স্থান আরো পিচ্ছিল হয়ে উঠবে।
এমআর/টিকে