© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফুল দিয়ে যেন চাপা দিয়ে আমায় বিদায় করে : স্বস্তিকা

শেয়ার করুন:
ফুল দিয়ে যেন চাপা দিয়ে আমায় বিদায় করে : স্বস্তিকা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫৪ এএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পরনে নীল তসরের আভিজাত্য, কপালে বড় লাল টিপ, আর চুলে রাস্তার ধার থেকে পেড়ে নেওয়া নাম না জানা বুনো ফুল। সাজগোজের চেনা সংজ্ঞা ভাঙতে বরাবরই দক্ষ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তবে এবার বোলপুরে এক বন্ধুর বিয়েতে তাঁর সাজে ছিল না কোনও বিলাসিতা—ছিল নস্টালজিয়া, স্মৃতি আর মায়ের প্রতি গভীর টান।

বিয়েবাড়িতে যাওয়ার পথে মনের মতো ফুল না পেয়ে, বোলপুরের রাস্তায় টোটো থামিয়েই নিজের মতো করে সাজের উপকরণ খুঁজে নেন স্বস্তিকা। দেওয়াল বেয়ে ঝুলে থাকা সূর্যের রঙের থোকা থোকা বুনো ফুল পেড়ে, ব্যাগে থাকা সাধারণ হেয়ারপিন দিয়েই চুলে গুঁজে নেন তিনি। সমাজমাধ্যমে অভিনেত্রী লেখেন, এই ফুলগুলো আদিবাসী মেয়েদের মাথার ফুলের মতো—পলাশের রঙের হলেও পলাশ নয়। সেই বুনো ফুলেই সম্পূর্ণ হয় তাঁর বিয়েবাড়ির লুক।

স্বস্তিকার পরনের শাড়িটির বয়স ২৭ বছর—যা তাঁর নিজের মেয়ের বয়সের থেকেও বেশি। পার্ক স্ট্রিটের এক দোকান থেকে এই শাড়ি কিনে দিয়েছিলেন তাঁর মা। অভিনেত্রীর কথায়, “যত্ন করে রাখতে পারলে আর যত্ন করে রাখতে দিলে, সব থাকে। শাড়ি হোক বা জীবন।” এই পুরনো শাড়ি আর সাবেকি গয়নার মধ্যেই যেন তিনি খুঁজে পেয়েছেন মায়ের ছায়া। মায়ের মতো করেই ঘাড়ের কাছে আলতো খোঁপা, কাঁধে আঁচল—মাকে ‘কপি’ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

ফুলের সঙ্গে স্বস্তিকার সম্পর্ক আজন্মের। সেই আবেগ থেকেই তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে এক গভীর দর্শন। অভিনেত্রী লেখেন, মৃত্যুর পর যেন কোনও আড়ম্বর না হয়—শুধু প্রিয় ফুল দিয়েই তাঁকে বিদায় জানানো হয়। তাঁর কথায়, “আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না হোক, ফুল দিয়ে যেন চাপা দিয়ে আমায় বিদায় করে।”

বোলপুরের লাল মাটির পথে নাম না জানা বুনো ফুল আর মায়ের স্মৃতিমাখা পুরনো শাড়িতে স্বস্তিকা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন—আভিজাত্য কখনও দামি ব্র্যান্ডে নয়, আভিজাত্য লুকিয়ে থাকে মায়া, স্মৃতি আর ভালোবাসার বাঁধনে।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন