© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন, তার সমর্থনে ব্যাখ্যা অশ্বিনের

শেয়ার করুন:
তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন, তার সমর্থনে ব্যাখ্যা অশ্বিনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩৩ পিএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগে থেকেই বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ছেন পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক। অবশ্য দু’বারই তিনি অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হননি। সম্প্রতি আবারও একাধিকবার বোলিং নিয়ে সমালোচিত হচ্ছেন তারিক। গতকাল (মঙ্গলবার) তিনি প্রথমবার বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে নেমে ২৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকারের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ৩২ রানে জিতেছে পাকিস্তান। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত টানা দুই ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সালমান আলি আগার দল আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হবে। তার আগে উসমান তারিকের বোলিং নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় তার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন সাবেক ভারতীয় তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

পাকিস্তানি এই স্পিনারের কনুই প্রাকৃতিকভাবে এমন, যা পুরোপুরি সোজা করা যায় না। একই সমস্যা ছিল শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরনেরও।



সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীবত্স গোস্বামী উসমান তারিকের বোলিং ডেলিভারির আগে থেমে যাওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। একটি ভিডিও টুইট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এখন ফুটবলেও পেনাল্টি নেওয়ার সময় খেলোয়াড়দের রান-আপের মাঝে থামার অনুমতি দেয় না। এটা কীভাবে ঠিক হতে পারে? অ্যাকশন ঠিক আছে, কিন্তু থেমে যাওয়া (পজ)? তাও বল ডেলিভারির ঠিক আগমুহূর্তে! এটা কোনোভাবেই চলতে পারে না।’

ওই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অশ্বিন। তিনি লেখেন, ‘এটা ঠিক যে ফুটবলে এমন কিছুর অনুমতি দেয় না! কিন্তু ব্যাটার তো আম্পায়ার বা বোলারকে না জানিয়েই সুইচ হিট বা রিভার্স শট খেলতে পারে। অথচ তিনি অন্যদিকে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন, কেবল বোলারের ওপরই বিধিনিষেধ কেন? এমনকি বোলার কোন হাতে বল করবেন, সেটাও আম্পায়ারকে না জানিয়ে বদলাতে পারেন না! আগে সেই নিয়মটা বদলানো উচিত।’

অশ্বিন জবাব দেওয়ার পর গোস্বামী পিছু হটার পাত্র নন। তিনি পাল্টা জবাবে লেখেন, ‘রিভার্স সুইপ প্রথম খেলা হয়েছিল ১৯৬৪ সালে, সেটা এখনও বিতর্কিত? ঠিক আছে। আমরা এখানে ‘পজ’ নিয়ে কথা বলছি, ‘পজ’। ব্যাটার তো স্ট্যান্স নিয়ে, চোখ ফিরিয়ে, থেমে আবার সেট হয়ে বলের জন্য অপেক্ষা করে না। সে বোলার যা–ই দিক, তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে। এটাকে বোলার বনাম ব্যাটার বানাবেন না। বিষয়টা ‘পজ’। যদি ১ সেকেন্ড থামা ঠিক হয়, তবে ২ সেকেন্ডও ঠিক, ১০ সেকেন্ডও কি ঠিক? ক্রিকেট ধারাবাহিকতার খেলা। পজ খেলায় ছন্দ ভেঙে দেয়।

আর খেয়াল করলে দেখবেন, দ্রুত বল করার সময় সে হাত কিছুটা বাঁকায়। আশা করি আইসিসি স্পষ্টতা আনবে, এর আগে এটি আরেকটি ধূসর (গ্রে) এলাকায় পরিণত হয়।’

এরপর সেই আলোচনায় যোগ দেন ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া। এবার তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘আমার মনে হয় “পজ” একদম ঠিক আছে। তবে বোলিং-সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন আছে যদি রান-আপ থেকে গতি তৈরি না হয়, তাহলে হাত না বাঁকিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ডেলিভারিতে ২০-২৫ কিমি গতিবেগ বাড়ানো সম্ভব কি?’ অশ্বিন সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন।

একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্টে ভারতীয় এই ক্রিকেট বিশ্লেষক লিখেছেন, ‘বিষয়টি যতটা সম্ভব পরিষ্কার করে বলি। প্রথমত, তার অ্যাকশনের বৈধতা কেবল আইসিসির বোলিং অ্যাকশন টেস্টিং সেন্টারেই পরীক্ষা করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, ১৫ ডিগ্রি নিয়ম রয়েছে যার অধীনে বোলারকে কনুই সোজা রেখে বল করতে হয়। মাঠের আম্পায়ারের পক্ষে ১৫ ডিগ্রি সীমার মধ্যে বল করা হচ্ছে কি না তা বিচার করা প্রায় অসম্ভব। এর একমাত্র সমাধান হলো প্রতিযোগিতার মধ্যেই রিয়েল-টাইম পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা। এটি একটি ধূসর এলাকা এবং কেউ যদি সেই ধূসর এলাকার সুবিধা নেয়, তাকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। শেষ কথা, ক্রিজে ‘পজ’ বৈধ কি না আমার বিশ্বাস এটি পুরোপুরি বৈধ, কারণ এটি তার স্বাভাবিক অ্যাকশনের অংশ।’

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন