মুক্তির আগেই আইনি জটিলতায় ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৫ পিএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি ছবি ঘিরে ফের তুমুল বিতর্ক। পরিচালক কামাখ্যানারায়ণ সিংয়ের নতুন ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২-গোজ বিয়ন্ড’-এর মুক্তি আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির কথা থাকলেও তার আগেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে গেল পুরো প্রকল্প।
কেরালার কান্নুরের বাসিন্দা ও পেশায় জীববিজ্ঞানী শ্রীদেব নাম্বুদিরি কেরালা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছবির টিজার ও ট্রেলার কেরালা সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে এবং মালয়ালি সমাজকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করছে। আবেদনকারীর দাবি, ছবির বিষয়বস্তু তাঁর বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং এতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাসের বেঞ্চে মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছে। আদালত কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন এবং প্রযোজনা সংস্থা সানশাইন পিকচার্সকে নোটিস পাঠিয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে বলেছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। সেই দিনই স্পষ্ট হবে, নির্ধারিত দিনে ছবিটি মুক্তি পাবে কি না।

আবেদনকারীর বক্তব্য, ট্রেলারে অন্য রাজ্যের প্রেক্ষাপট দেখানো হলেও ছবির নাম ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ রাখায় কেরালাকেই লক্ষ্য করে সন্ত্রাসবাদ বা ধর্মান্তকরণের মতো সংবেদনশীল বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। টিজারে ব্যবহৃত স্লোগান নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিতর্কে সরব হয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তাঁর মতে, এ ধরনের ছবি কেরালার ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতিকে আঘাত করে এবং রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা। অন্যদিকে ছবির প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহ দাবি করেছেন, গভীর গবেষণার ভিত্তিতেই ছবিটি নির্মিত এবং সেন্সর বোর্ড নিয়ম মেনেই ছাড়পত্র দিয়েছে।
এখন নজর কেরালা হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে। আদালতের রায়ের উপরই নির্ভর করছে ২৭ ফেব্রুয়ারির বহুল আলোচিত এই ছবির ভবিষ্যৎ।
পিআর/টিএ