বিয়ের সংখ্যা বাড়ায় আশার আলো দেখছে সিউল
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫০ এএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রায় এক দশক ধরে জনসংখ্যা সংকটে ভুগছিল দক্ষিণ কোরিয়া। জন্মহার এত কমে গিয়েছিল যে দেশটি বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের তকমা পায়। তবে এবার মিলেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটির জন্মহার বেড়েছে।
সরকারি প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট প্রজনন হার দাঁড়িয়েছে ০.৮০। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ০.৭৫। এসব তথ্য দিয়েছে দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগ।
২০২৩ সালে জন্মহার নেমে গিয়েছিল ০.৭২-এ, যা ছিল বিশ্বের সর্বনিম্ন। তখন বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়া ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার কারণে অনেকেই সন্তান নিতে পিছিয়ে যান। তবে ২০২৪ সাল থেকে পরিস্থিতি একটু বদলাতে শুরু করে। করোনার পর স্বাভাবিক জীবন ফিরেছে।সরকারের বিভিন্ন সহায়তা নীতিও কাজে আসছে।
২০২৫ সালে প্রতি হাজার জনে ৫ জন শিশুর জন্ম হয়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ৪.৭ জন। তুলনায় চীনে এ হার ৫.৬, তাইওয়ানে ৪.৬ এবং জাপানে ৫.৭। তবে জাপানে জন্মহার এখনো নিম্নমুখী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিয়ের সংখ্যা বাড়া একটি বড় কারণ। ২০২৫ সালে বিয়ে বেড়েছে ৮.১ শতাংশ। তার আগের বছর বৃদ্ধি ছিল ১৪.৮ শতাংশ। সাধারণত বিয়ের এক-দুই বছর পর সন্তান জন্মের হার বাড়ে।
রাজধানী সিউল-এ জন্মহার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সেখানে হার দাঁড়িয়েছে ০.৬৩, যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ বেশি। যদিও এটি এখনো দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।
হাল্লিম বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞানী শিন কিয়ং-আহ বলেন- পরিসংখ্যান আরও বিশ্লেষণ দরকার। তবু এই পরিবর্তন ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এতে মানুষ সন্তান নেওয়ার ব্যাপারে আরও উৎসাহ পেতে পারে। সরকার আশা করছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে জন্মহার ১.০ ছাড়াতে পারে।
এমআর/টিএ