© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইসরায়েলি হামলায় লারিজানির সঙ্গে মারা গেছে তার ছেলেও

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলি হামলায় লারিজানির সঙ্গে মারা গেছে তার ছেলেও

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৪২ পিএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি নিহত হওয়ার সময় ওই হামলায় তার ছেলেও নিহত হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলার সময় তার ছেলেও নিহত হন। তবে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ইসরায়েল দাবি করেছিল, রাতভর পরিচালিত এক অভিযানে তারা লারিজানিকে হত্যা করেছে এবং তাকে ইরানের নেতা হিসেবে অভিহিত করে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লারিজানি ছিলেন রক্ষণশীল শিবিরের অন্যতম স্তম্ভ। তিনি বাস্তববাদী রাজনীতির জন্য পরিচিত ছিলেন এবং কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর সিনিয়র ফেলো এলি গেরানমায়েহ বলেন, লারিজানি দীর্ঘদিন সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমাধান খোঁজার আলোচনায় ছিলেন।

২০২৫ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধ শুরুর পর এক সাক্ষাৎকারে লারিজানি অভিযোগ করেছিলেন, ইসরায়েল ইরানকে দুর্বল ও বিভক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়, লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পদে মোজতবা খামেনি-এর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার মতে, বংশানুক্রমিক নেতৃত্ব ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান, পারমাণবিক আলোচক এবং সংসদের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর সঙ্গে তার মতবিরোধও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত ছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানুয়ারিতে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগ তোলে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই দমন-পীড়নে হাজারো বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ১৩ মার্চ তেহরানে একটি রাষ্ট্র-আয়োজিত সমাবেশে তাকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায়। পরদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের শীর্ষ নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে পুরস্কার ঘোষণা করলে সেই তালিকায় তার নামও ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির মৃত্যু ইরানের ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

আইকে/টিকে

মন্তব্য করুন