গঙ্গা নদীতে ইফতার ও হাড় ফেলার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার ১৪
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০২ পিএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
ভারতের বারাণসীতে নৌকায় ইফতার করার সময় গঙ্গা নদীতে মাংসের উচ্ছিষ্ট ফেলার অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের বারাণসী কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই গত সোমবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বারাণসীর ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার নগর সভাপতি রজত জয়সওয়ালের দায়ের করা এই অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় স্থল অবমাননা ও উপদ্রব, নদীদূষণ এবং ক্ষতিকর দ্রব্য নদীতে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বারাণসীর সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় প্রতাপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গত সোমবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে কয়েকজন যুবককে গঙ্গার পবিত্র পানিতে নৌকায় ইফতার করতে দেখা যায়। তাঁদের চিকেন বিরিয়ানি খেতে দেখা গিয়েছে। পরে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য একাধিক টিম গঠন করা হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।’
অভিযোগকারী রজত জয়সওয়াল বলেন, ‘ইফতারের নামে কিছু মুসলিম যুবক বিন্দু মাধব ধরহারা মন্দিরের সামনে গঙ্গায় আমিষ খাবার খেয়েছেন। বিন্দু মাধব ধরহারাকে আলমগীর মসজিদ বলা হলেও তার আসল নাম কিন্তু আলমগীর মসজিদ নয়। মুসলিম যুবকরা যেভাবে মাংস খেয়েছেন, তা সনাতন ধর্মের অনুসারীদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি।’
জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলাম, যার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রমাণ হিসেবে আমরা প্রশাসনের কাছে ওই ভিডিওটি জমা দিয়েছি। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে তাঁরা আমিষ খাবার খাচ্ছেন এবং গঙ্গায় মাংসের হাড় ছুড়ে ফেলছেন।’
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বারাণসীর আঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদের যুগ্ম সম্পাদক এস এম ইয়াসিন নৌকায় ইফতারের নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তিনি এও অভিযোগ তুলেছেন, মুসলিমদের হয়রানি করার জন্যই এই মামলা করা হয়েছে। এস এম ইয়াসিন বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে মুসলিমদের শোষণের জন্যই তাঁদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এসএস/টিকে