মহুয়া ছবির শুটিং সেটে নতুন জটিলতা!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০২ পিএম | ২৮ মার্চ, ২০২৬
মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনীভিত্তিক ছবির শুটিং শুরুর প্রথম দিনেই তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তি। শুক্রবার বিকেল থেকে শুটিং ফ্লোরে যে জটিলতা শুরু হয়েছিল, তা শনিবার গিয়ে পৌঁছায় প্রকাশ্য আলোচনায়। প্রযোজক রানা সরকার অভিযোগ করেন, শুটিং চলাকালীন এক টেকনিশিয়ানকে মারধর করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ‘লাইট কেয়ারটেকার’দের একাংশের দাদাগিরি।
ঘটনার পরই তিনি বিষয়টি জানান প্রযোজক সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে। শনিবার সাংবাদিকদের সামনে পিয়া সেনগুপ্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রযোজকেরা এমনিতেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ছবি তৈরি করেন, তার ওপর যদি শুটিং ফ্লোরে এ ধরনের চাপ তৈরি হয়, তা হলে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাঁর বক্তব্য, যে গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই, তাই তাদের এই আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।

পিয়ার কথায়, স্বরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তিনি জানান, যদি বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তা হলে প্রযোজকেরা নিজেরাই কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। কারণ শুটিংয়ের জায়গায় নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকলে ছবি নির্মাণ অসম্ভব।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্বরূপ বিশ্বাস দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়েই দেখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।
প্রযোজক রানা সরকারও অভিযোগকে আরও জোরালো করে বলেন, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত। তাঁর দাবি, বাবাই নামে এক প্রোডাকশন ম্যানেজার ইউনিটের সদস্যদের ফোন করে কাজে না আসার কথা বলেছেন। রানা প্রশ্ন তোলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য হয়ে কীভাবে অন্যদের শুটিংয়ে না আসতে বলা হয়। তাঁর অভিযোগ, ফেডারেশনের কয়েকজন সদস্যের আচরণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
রানার বক্তব্য, প্রয়োজনে তাঁরা প্রোডাকশন ম্যানেজার ছাড়াই নির্বাহী প্রযোজকের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন, কিন্তু কাজ থামিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি সরাসরি ফেডারেশন সভাপতির উদ্দেশে বলেন, আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
শনিবারও প্রায় দুই ঘণ্টা শুটিং বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ, সেই সময়ও ‘লাইট কেয়ারটেকার’দের কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই গোষ্ঠীর দায় তাদের নয়।
বাংলা ছবির কাজ এমনিতেই নানা চাপে এগোচ্ছে। তার মধ্যেই শুটিং ফ্লোরে নতুন এই বিরোধ শিল্পের অন্দরমহলে আবারও প্রশ্ন তুলে দিল, কাজের পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত।
পিআর/টিএ