‘ধুরন্ধর’ ছবিতে সারা অর্জুন কীভাবে রণবীরের নায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হন?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৯ পিএম | ২৮ মার্চ, ২০২৬
রণবীর সিংয়ের বিপরীতে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে সারা অর্জুনকে প্রথম দেখা যাওয়ার সময় থেকেই দর্শকের মধ্যে কৌতূহল ছিল, কীভাবে এত বড় ছবির জন্য তাঁকেই বেছে নেওয়া হল। কারণ ছবির মুক্তির আগেই বয়সের ব্যবধান নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু ছবি মুক্তির পর সেই সব বিতর্ককে পিছনে ফেলে সারা নিজের অভিনয় দিয়েই জায়গা করে নেন দর্শকের মনে। বিশেষ করে ‘ইয়ালিনা জামালি’ চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছবির অন্যতম আলোচ্য হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি কাস্টিং পরিচালক মুকেশ ছাবড়া সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্তরালের গল্প সামনে আনেন। তাঁর কথায়, এই চরিত্রের জন্য শুরু থেকেই এমন এক মুখের খোঁজ ছিল, যাকে দর্শক একেবারে নতুন বলে বিশ্বাস করবেন। প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের নামও ভাবনায় ছিল, অনেকেই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, অডিশনও দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাতাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন কাউকে নেওয়া, যার মধ্যে কোনও পরিচিতির চাপ থাকবে না।
মুকেশ জানান, তিনি এবং পরিচালক আদিত্য ধর দু’জনেই চেয়েছিলেন চরিত্রটির মধ্যে একেবারে নতুন এক আবিষ্কারের অনুভূতি থাকুক। এমন একজন, যার অভিনয় দেখলে মনে হবে প্রথমবার এই চরিত্রে ডুবে যাচ্ছে। সেই কারণেই হাজার হাজার অডিশনের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ে সারা অর্জুনের পরীক্ষা।

অডিশনের একটি সংলাপ ছিল, “আপনি কি ভারতের কোনও এজেন্ট?” মুকেশের কথায়, সারা সেই সংলাপ বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দৃশ্যটি আদিত্য ধরকে পাঠিয়ে দেন। উত্তরে সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন আসে, এই মেয়েটি কে? তখনই তিনি জানান, শিশুশিল্পী হিসেবে কয়েকটি কাজ করেছে সারা, পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও দেখা গেছে তাকে।
প্রথম দিকে একটি সংশয় ছিল রণবীর সিংয়ের পাশে সারা হয়তো উচ্চতায় কিছুটা ছোট দেখাবে। কিন্তু পরে নির্মাতারা বুঝতে পারেন, চরিত্রের আবেগ, উপস্থিতি এবং সংলাপ বলার ভঙ্গিতে সারা ঠিক সেই জায়গাতেই পৌঁছে গেছেন, যা তাঁরা খুঁজছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই কারণেই তিনিই চূড়ান্ত হন।
মুকেশ আরও জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই সারার সেই অডিশনের অংশ প্রকাশ করা হবে, যাতে দর্শকরাও বুঝতে পারেন কেন এত প্রতিযোগিতার মধ্যে তাকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, অডিশনের মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়েছিল, এই চরিত্রের জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক এবং বিশ্বাসযোগ্য মুখ সারা অর্জুন।
‘ধুরন্ধর’ প্রথম পর্বের সাফল্যের পর দ্বিতীয় ছবিতেও তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, এই নির্বাচন কেবল চমক নয়, ছিল নির্মাতাদের সচেতন সিদ্ধান্ত।
পিআর/টিএ