© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মায়ের হাত ধরে শুটিং দেখা থেকে রাজনীতির মঞ্চে মুনমুন সেন!

শেয়ার করুন:
মায়ের হাত ধরে শুটিং দেখা থেকে রাজনীতির মঞ্চে মুনমুন সেন!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৬ পিএম | ২৮ মার্চ, ২০২৬
মুনমুন সেন-এর জীবন যেন বাংলা চলচ্চিত্র, গ্ল্যামার এবং রাজনীতির এক দীর্ঘ যাত্রাপথ। জন্ম থেকেই আলোয় ঘেরা পরিবেশ কারণ তিনি ছিলেন সুচিত্রা সেন-এর কন্যা। ছোটবেলায় মায়ের হাত ধরে শুটিং সেটে যাওয়া থেকেই অভিনয়ের জগতের সঙ্গে তাঁর প্রথম ঘনিষ্ঠ পরিচয় তৈরি হয়।

শৈশব থেকেই ক্যামেরা, আলো, স্টুডিয়োর পরিবেশ তাঁর কাছে ছিল খুব স্বাভাবিক। তবে বিখ্যাত পরিবারের সন্তান হওয়ায় সুবিধার পাশাপাশি ছিল একটানা তুলনার চাপ। অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই বারবার তাঁকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, আর সেটাই হয়ে ওঠে তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।

অভিনয়ে আসার আগে মডেলিং দুনিয়াতেও নিজের উপস্থিতি জানান দেন মুনমুন। একাধিক বিজ্ঞাপনে কাজ করে খুব দ্রুত নজর কাড়েন। পরে বাংলা ছবিতে তাঁর হাতেখড়ি হয় কোরাস ছবির মাধ্যমে। এরপর ‘রাজবধূ’তেও অভিনয় করে তিনি দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

হিন্দি ছবিতে তাঁর প্রবেশ ঘটে ১৯৮৪ সালে আনন্দ অউর আনন্দ ছবির মাধ্যমে, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন অনিল কাপুর। পরবর্তী সময়ে তিনি কাজ করেন শ্রীদেবী, জ্যাকি শ্রফ, বিনোদ খান্না-র মতো তারকাদের সঙ্গে। বাংলা ও হিন্দির পাশাপাশি দক্ষিণী ছবিতেও নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। তেলুগু, তামিল, কন্নড় একাধিক ভাষার ছবিতে কাজ করে প্রমাণ করেন তাঁর অভিনয়ের বিস্তার কেবল আঞ্চলিকতায় আটকে নেই।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সময়ের তুলনায় আলাদা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য ভরত দেব বর্মাকে বিয়ে করার পরও অভিনয় ছাড়েননি। প্রথম কন্যা রাইমা সেন-এর জন্মের পরও ক্যামেরার সামনে নিয়মিত থেকেছেন, যা সেই সময় খুব কম অভিনেত্রীই করতেন। পরে দ্বিতীয় কন্যা রিয়া সেন-কেও একই সাংস্কৃতিক আবহে বড় করেন।



অভিনয়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তিনি রাজনীতিতেও প্রবেশ করেন। ২০১৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর সংসদীয় দায়িত্ব সামলানোর পর ২০১৯ সালে আসানসোল-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় আসেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে জন্মদিন উপলক্ষে রাইমা মায়ের একাধিক অদেখা ছবি ভাগ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তাতে আবারও সামনে এসেছে মুনমুনের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের উজ্জ্বল দিক।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন