কৃষি ও শ্রমবাজারের ভিত গড়েছিলেন জিয়াউর রহমান : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৬ এএম | ০২ মে, ২০২৬
দেশের কৃষি ও শ্রম খাতের ভিত্তি নির্মাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বলেছেন, অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও জিয়াউর রহমান এমন কিছু দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যার ওপর ভর করেই আজকের কৃষি উৎপাদন এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
শুক্রবার জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কৃষি খাতকে টেকসই ও উৎপাদনমুখী করতে জিয়াউর রহমান আধুনিক সেচব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিএডিসির মাধ্যমে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন, খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো উদ্যোগগুলো শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ায়নি, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও করেছে গতিশীল।
এসব পরিকল্পনার ফলে কৃষকরা নতুন সম্ভাবনার মুখ দেখেছিল এবং খাদ্য উৎপাদনে দেশ এগিয়ে যেতে শুরু করে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের সীমিত সম্পদের মধ্যেও জিয়াউর রহমান বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিলেন। তার সময়েই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ শুরু হয়, যা পরবর্তী সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে। আজ যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে, তার পেছনে সেই সময়কার ভিত্তি তৈরির বড় অবদান রয়েছে।’
মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের অবদান ছাড়া কোনো উন্নয়নই সম্ভব নয়। অথচ বাস্তবতায় দেখা যায়, শ্রমিকরা এখনো ন্যায্য মজুরি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পেও শ্রমিকদের নির্ধারিত মজুরি কেটে রাখার অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।’ তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, যে শ্রমিক নিজের হাতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন, সেই শ্রমিকের সন্তানরাই সেখানে পড়াশোনার সুযোগ পায় না; যা পরিবর্তন করা জরুরি।
শ্রমিকদের প্রতি আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। রাষ্ট্রের সম্পদ যেন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’ পাশাপাশি তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ভবিষ্যতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য একটি সম্মানজনক ও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কেএন/এসএন