চীন সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৪ পিএম | ০৫ মে, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আজ মঙ্গলবার (৫ মে) বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফরে তিনি তার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত শেষ করতে আলোচনা হলেও তাতে এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের সাতটি ছোট জাহাজে হামলা করেছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, অন্তত ৫ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন।
সোমবার (৪ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সাতটি দ্রুতগতির নৌযানে হামলা চালিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে এই জলপথ দিয়ে নিরাপদে বের করে আনতেই ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সাতটি ছোট নৌকা বা দ্রুতগামী নৌযানকে ডুবিয়ে দিয়েছি। তাদের কাছে শুধু এগুলোই অবশিষ্ট ছিল’। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, নৌযানগুলোতে হামলা চালাতে তারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ইরানি স্পিডবোটগুলোতে মার্কিন হামলার দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তবে একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানের দুইটি পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে এবং পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে তাদের জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়াও আরব আমিরাত আরও জানায়, ইরানের হামলার পর ফুজাইরাহর বন্দরে বড় ধরনের আগুন লেগে গেছে। এসব হামলার দেশটির ইরানকে দায়ী করে। তবে তেহরান দায় অস্বীকার করে।
এর মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালীর ঘটনাপ্রবাহ এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক’।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বিমান হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে। হামলার জবাবে বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অবরোধের ঘোষণা দেয়, যেখান দিয়ে সাধারণত বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার পর ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করে। তবে এরপরও খুব কম সংখ্যক জাহাজই এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পেরেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করলে জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
কেএন/টিকে