যুদ্ধের কারণে গত তিন বছর ধরে নিজ দেশে কোনো ম্যাচ খেলতে পারেনি সুদান। সেই তারায় ৫৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের নকআউট পর্বে উঠেছে। শেষ ষোলোয় সেনেগালের বিপক্ষে জিততে পারলে তা দেশে যুদ্ধ বন্ধের উপলক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন সুদানের কোচ কোয়েসি আপিয়া।
মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে সুদান। তাতে অবশ্য শীর্ষ দুইয়ে থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে না পারলেও তৃতীয় সেরা দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় সুদান।
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা একবারই জিতেছিল সুদান- ১৯৭০ সালে। তারপর ২০১২ সালের আসরে একবার নকআউট পর্বে উঠেছিল তারা, আর এই ৫৬ বছরের মধ্যে এবার দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো সুদান।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সরকারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নামের সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী।দেশটির বিভিন্ন অংশে প্রায়ই সশস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলায় হতাহতের খবর আসে।
এই সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। এছাড়া দেশের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্ভিক্ষ।
সংঘাতের ফলে নিজ দেশে খেলতে পারেনি সুদান জাতীয় দল। তবে দেশ থেকে নির্বাসিত হয়েও খেলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সেনেগালের মুখোমুখি হবে তারা। আগের দিন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে দলের ওপর যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আশার কথা শোনান সুদান কোচ কোয়েসি আপিয়া।
‘বেশিরভাগ সময় আমি এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, কারণ অনুভূতিগুলো ভয়াবহ। এটা এমন কিছু নয়, যা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই।
তবে আমরা আশা করছি যে, যদি আমরা জিতি তাহলে তা হয়তো যুদ্ধ-পরিস্থিতিকে শান্ত করবে, এমনকি যুদ্ধ থামিয়ে দেবে।’
সুদানের কোচ আরও বলেন, ‘এর আগে একটি ম্যাচ হয়েছিল যেখানে আমরা জিতেছিলাম (বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে), তখন সেনাবাহিনী তাদের বন্দুক নামিয়ে রেখেছিল এবং সবাই উদযাপন করছিল। ফুটবল এই পৃথিবীর অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।’
সুদান জাতীয় দলই যে শুধু ঘরের মাঠে খেলতে পারছে না তা নয়, দেশটির শীর্ষ দুটি ক্লাব চলে গেছে রুয়ান্ডায়। সেখানে তারা স্থানীয় লিগে অতিথি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে দেশের বাইরে খেলা অতটা সহজ নয়।
সুদান জাতীয় দলের অধিনায়ক বাখিত খামিস বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, দেশের বাইরে খেলা এবং এমন পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। পরিবার থেকে দূরে, বাড়ি থেকে দূরে থাকা আমাদের জন্য খুবই কঠিন। আমরা এই পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি, আমাদের ভক্তদের খুশি করার চেষ্টা করছি এবং আশা করি, পরিস্থিতি ভালো হবে। মাঠে আমরা যা করছি, তা আমাদের দেশের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ভালো করার প্রচেষ্টা।’
এমআই/টিকে