বাংলাদেশ ক্রিকেটে সুযোগের সমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা নতুন মাত্রা পেল রংপুর রাইডার্সের স্পিনার নাঈম হাসানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সব ক্রিকেটারের জীবন একরকম হয় না এবং কেউ বেশি সুযোগ পায়, আবার কেউ কম। চোট কাটিয়ে ৭ জানুয়ারি দলের সাথে যোগ দেওয়ার পর নাঈম এই মন্তব্য করেন, যা অনেক তরুণ ক্রিকেটারের মনের কথাকেই যেন তুলে ধরেছে।
নাঈম হাসান জানান, চোটের কারণে তিনি এতদিন অনুশীলন করতে পারেননি। তবে দলের সাথে যোগ দেওয়ার পর তিনি নিজের শতভাগ দিয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত। এই চোটের কারণে তিনি বিপিএলের শুরু থেকেই দলের বাইরে ছিলেন।
দলের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৌশলগত কারণে অনেক সময় যোগ্য খেলোয়াড়কেও বাইরে থাকতে হয়। এটি আধুনিক ক্রিকেটের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে দলগত পারফরম্যান্সকে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সুযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "টিম ম্যানেজমেন্ট দলের ভালো সমন্বয়ের কথা চিন্তা করে, যার জন্য হয়তো অনেক সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। আর আমি যখন খেলি তখন চেষ্টা করি নিজের শতভাগ দিয়ে দলকে ভালো অবদান রেখে ম্যাচ জেতানোর জন্য।"
অফস্পিনার হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাঈম সতীর্থ শেখ মেহেদীর উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, "দেখেন সাধারণভাবে চিন্তা করেন, শেখ মেহেদী ভাইও ট্রাডিশনাল অফস্পিনার, উনিও খেলছেন। এখন দলের যে চাহিদা থাকে সেটা যদি আমি পূরণ করতে পারি তাহলে ভালো। আর চ্যালেঞ্জ তো সব খেলার মধ্যেই আছে। ওই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।"
সুযোগের অসমতা নিয়ে তার মন্তব্য ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সুযোগ পাওয়া এবং তা কাজে লাগানো অনেক সময় ভাগ্যের ওপরও নির্ভর করে। নাঈম হাসানের মতো খেলোয়াড়দের জন্য তাই সবসময় প্রস্তুত থাকাটা অপরিহার্য।
নাঈম বলেন, "আসলে সব খেলোয়াড়ের জীবন এক হয় না। কেউ সুযোগ বেশি পায় আর কেউ কম পায়। এখন আমার জন্য বিষয়টি কঠিন, আমাকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। যখনই সুযোগ পাই যেন আল্লাহর রহমতে ভালো খেলতে পারি; একটা সময় এসে দেখা যাবে আমি বেশি সুযোগ পাব ইনশাআল্লাহ।"
বাংলাদেশ জাতীয় দলে কেবল লাল বলেই সুযোগ পান নাঈম। টেস্ট ক্রিকেট ছাড়া আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্য কোনো ফরম্যাটে বিচরণ নেই তার। তবে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নাঈম হাসান জানান, তিনি তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটই খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।
তিনি বলেন, "না আসলে কে কী মনে করে সেটা আমি চিন্তা করি না। আমি চিন্তা করি আমি তিন ধরনের ক্রিকেটেই (ফরম্যাট) খেলব। আমি সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছি। ইনশাআল্লাহ যখন আল্লাহ সুযোগ দেবেন তখন আমি নিজেকে প্রমাণ করলে শেষ পর্যন্ত সবাই বলতে পারবে যে আমি সব ধরনের ক্রিকেটের জন্যই যোগ্য ইনশাআল্লাহ।"
নাঈম হাসানের এই বক্তব্য বাংলাদেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ বণ্টন এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। তার এই অকপট স্বীকারোক্তি অনেক তরুণ ক্রিকেটারেরই প্রতিচ্ছবি, যারা সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজেদের প্রমাণ করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
টিজে/টিকে