১. সৌজন্য ও সময়ানুবর্তিতা
অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল বেলা ১১টায়, কিন্তু বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হন। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি প্রায় সব সাংবাদিকের কাছে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে হ্যান্ডশেক করেন। আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি যখন নিজের পরিচয় দিলাম, তিনি মৃদু হেসে ধন্যবাদ জানালেন। সেই বিশেষ মুহূর্তটি আমি ফেসবুক মেটাগ্লাস দিয়ে ধারণ করেছি। বিশ্বের এই অত্যাধুনিক এআই লেন্সের মাধ্যমে তার সঙ্গে সেই মুহূর্তের কয়েক সেকেন্ড এই ভিডিওতে দেখুন।
২. বিনয় ও মার্জিত আচরণ
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে তার নম্রতা ছিল নজরকাড়া। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন যেন তাকে সম্মোধন করতে ‘মাননীয়’ শব্দটি ব্যবহার করা না হয়। গেল ১৭ বছরে বাংলাদেশে কী হয়েছে সে বিষয়ে তিনি যে অবগত আছেন সেটা বলছিলেন অত্যন্ত মার্জিত এবং স্বভাবসুলভ নম্রতার সুরে!
৩. মনোযোগী শ্রোতা ও সাধারণের সাথে সংযোগ
আমি লক্ষ্য করেছি, সাংবাদিকরা যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তিনি হাতে কলম-খাতা নিয়ে নোট নিচ্ছিলেন। কেউ পরামর্শ দিলে তিনি তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন। এমনকি অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার কয়েক ধাপের ব্যারিয়ার তিনি সরিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে সবাই সহজে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
৪. কিছু দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত
মঞ্চে কেবল তিনি এবং তার দলের মহাসচিব ছিলেন, যা ছিল বেশ ছিমছাম। একজন সাংবাদিক তাকে বই উপহার দিতে চাইলে তিনি মঞ্চের চেয়ার ছেড়ে এগিয়ে গিয়ে সেটি গ্রহণ করেন। এমনকি ক্যামেরার পেছনে থাকা সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও তিনি হাত মিলিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
৫. আমার কিছু পর্যবেক্ষণ ও দ্বিমত (যা দৃষ্টিকটু লেগেছে)
সাংবাদিকদের অতিরঞ্জিত প্রশংসা: একজন সিনিয়র সম্পাদক বললেন, ‘তারেক রহমানের বিকল্প নেই’ এবং ইনকিলাব সম্পাদক তাকে আগাম প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন। একজন পেশাদার সাংবাদিক বা সম্পাদকের কণ্ঠে দলীয় নেতাকর্মীদের মতো এমন উচ্ছ্বাস-আবেগ কাম্য নয়। নির্বাচনের আগে এমন মন্তব্য নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
মিডিয়া সেলের অপেশাদারিত্ব: বিএনপির মিডিয়া সেলের আরও স্মার্টনেস প্রয়োজন। তারেক রহমানের সঙ্গে যখন একজন সাংবাদিক কথা বলছিলেন, এবং কথায় যখন কিছুটা নেতিবাচক দিক উঠে আসছিল তখন পেছন থেকে মিডিয়া সেলের কেউ সেই সাংবাদিকের কনুইতে টিপ দিচ্ছিলেন, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ও নেতিবাচক দেখায়।
অনলাইন গণমাধ্যম: এই অনুষ্ঠানে অনলাইন গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি! এমনকি অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সেখানে যেতে সরাসরি না করে দেয়া হয়েছে মিডিয়া সেল থেকে। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। আমি ছাড়া একজনও মোবাইল জার্নালিস্ট সেখানে ছিলেন না। অন্তত বিএনপি বিট কাভার করেন এমন মোবাইল জার্নালিস্টদের আমন্ত্রণ দেয়া কি যেত না? আলাদা করে তাদের না করে দেয়ার দরকারটা কী?
অনুষ্ঠানের শেষে আমি সামনের দিকে গিয়েছিলাম। অবশ্য ততক্ষণে ভিড় দেখে ফিরে এসেছি! তার বিনয় ও স্পষ্টবাদিতা , দেশের জন্য প্লান, তাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন-অভিযোগ-চ্যালেঞ্জ - এসব নিয়ে আমার খুব ইচ্ছে ছিল একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নেওয়ার। ভিড় আর সময়ের অভাবে সেদিন কথাটি সরাসরি বলা হয়নি। সেই অপেক্ষায় রইলাম! আবারো সামনে পেলে এটাই বলার ইচ্ছা ছিল- আমি আপনার একটা ইন্টারভিউ নিতে চাই। আপনি কি ইন্টারভিউ দেবেন? আমার ইন্টারভিউ ধারণ হবে মোবাইল ফোনে। মেটা এ-আই গ্লাসে! বাংলাদেশে একটিই আছে আমার কাছে। বড় ক্যামেরা থাকবে না। আপনি যেকোনো সময়; যে কোন স্থানে দশ মিনিট দিলেও হবে। নতুন প্রজন্মের গণমাধ্যমে অথবা নিউমিডিয়ায় আপনার প্রথম ইন্টারভিউ হতে পারে!! আপনার এই ইন্টারভিউ টিভিতে দেখানো হবে না- আমি যে গণমাধ্যমে কাজ করি সেখানের ডিজিটাল প্লাটফর্ম গুলোতেই যাবে। সম্ভবত এই প্লাটফর্ম গুলোর দর্শক- পাঠক গেল ১৭ বছরে যারা ভোটার হয়েছে সেই ৪ কোটি ভোটাদের একটি বড় অংশ। আপনি কি সেই ইন্টারভিউ দেবেন? বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি এই লেখাটি দেখে থাকেন অথবা পড়ে থাকেন! আর ইন্টারভিউ দিতে চান বা আগ্রহী হন আমাকে জানাতে পারেন। "আমি আপনার ইন্টারভিউ নিতে চাই"।
টিকে/