চার বছর বয়সেই বাবাহারা হলো ছোট্ট আরিয়া। বাগডোগরা বিমানবন্দরের সেই দৃশ্য যেন মুহূর্তে স্তব্ধ করে দেয় উপস্থিত সবাইকে। কফিনবন্দি বাবা প্রশান্ত তামাংয়ের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে ফুটফুটে শিশুকন্যার মুখে তখন একটাই কথা ‘ভালোবাসি বাবা’। কিছুই বুঝে ওঠার বয়স হয়নি তার, তবু বাবার মুখ দেখেই যেন বুকের গভীর থেকে উঠে এলো সেই সরল ভালোবাসার ভাষা।
সোমবার সকালে দেহ পৌঁছানোর পর শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন প্রশান্তের স্ত্রী গীতা তামাং। কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট আরিয়া, চোখে জল নেই, অথচ বাবাকে ছুঁয়ে ধরার মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত আকুতি। উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, জিটিএ প্রধান অনীত থাপাসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। শোক সামলাতে গিয়ে সবাই যেন নির্বাক।
পরিবারের লোকজন আরিয়াকে কফিনের কাছে নিয়ে যেতেই বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে সে গুনগুন করে বলতে থাকে ‘ভালোবাসি বাবা’। সেই মুহূর্তে অনেকের চোখের জল ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, গায়ক প্রশান্ত তামাং কোলে বসিয়ে মেয়েকে আদর করছেন, আরিয়া আধো আধো গলায় বাবার সঙ্গে গান গাইছে। সেই স্মৃতিই যেন ফিরে আসে উপস্থিত সকলের মনে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে জন্ম আরিয়ার। সে প্রশান্ত ও গীতার একমাত্র সন্তান। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশান্তের শেষ দিকের পোস্টগুলোর একটিতেও ছিল মেয়ের সঙ্গে তার সেলফি ভিডিও। সেই ভিডিও এখন অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে আরও বেদনাদায়ক স্মৃতি।
স্ত্রী গীতা তখন কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। প্রশান্তের দুই বোন অর্চনা ও অনুপমা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাত্র দশ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন প্রশান্ত নিজে। আর আজ তার মেয়েও চার বছর বয়সেই হারাল বাবার ছায়া।
সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, এই শোক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ছোট্ট আরিয়ার মুখের দিকে তাকানোই সবচেয়ে কঠিন। এক শিল্পীর জীবন থেমে গেলেও, তার রেখে যাওয়া ভালোবাসা আর স্মৃতি আজ অশ্রুসিক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে অনুরাগীদের হৃদয়ে।
এমকে/টিএ