সময়টা ছিল দুই হাজার ছয় কিংবা দুই হাজার সাত সাল। অমিতাভ রেজা চৌধুরীর নির্মাণে এসিআই এরোসলের একটি বিজ্ঞাপন তখন দর্শকের চোখে আলাদা দাগ কেটেছিল। বইয়ের পাতার অলঙ্করণ আর লেখার ভেতর থেকে উড়ে যাওয়া মশার সেই দৃশ্য আজও অনেকের মনে আছে। সেই বিজ্ঞাপনে বই পড়তে থাকা ছোট্ট মেয়েটিই আজকের অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। শিশুশিল্পী হিসেবে সেটিই ছিল তাঁর শোবিজে পথচলার শুরু।
ওই বিজ্ঞাপনের সাফল্যের পর গ্রামীণফোন, প্রাণসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে নিয়মিত দেখা গেল সাদনিমাকে। তবে পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন তিনি। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি টান তাঁকে বেশিদিন ক্যামেরার বাইরে থাকতে দেয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর দুই হাজার পঁচিশ সালের ভালোবাসা দিবসে ‘মনেরই রঙে রাঙিয়ে’ নাটকের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন সাদনিমা। সেখানে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর উপস্থিতি নজরে পড়ে নির্মাতা পার্থ সরকারের। সেই সূত্রেই ‘গোল্ডফিশ’ নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এরপর আরও কয়েকটি নাটকে কাজ করলেও সেগুলোর বেশির ভাগ এখনো প্রচারে আসেনি।
গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া তাঁর প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘লিটল মিস ক্যাওস’ সাদনিমার ক্যারিয়ারে নতুন মোড় এনে দেয়। অন্তর্জালে দর্শকের ইতিবাচক সাড়া তাঁকে নতুন করে পরিচিতি দেয়। এই কাজের পর একের পর এক নাটকের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে সাদনিমা আরও বেশ কয়েকটি নাটকের শুটিং শেষ করেছেন, যেগুলো আসন্ন ঈদে মুক্তি পেতে পারে বলে জানা গেছে। কাজ বাছাইয়ের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছেন। গল্প ও চরিত্রে সন্তুষ্ট না হলে কাজ করতে রাজি নন। কম কাজ হলেও মানসম্মত কাজের দিকেই তাঁর ঝোঁক।
এখন পর্যন্ত তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, সাদ নাওভি ও পার্থ সরকার। ভবিষ্যতে সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে আরও শেখার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি। চাকরির পাশাপাশি অভিনয় করায় মূলত সপ্তাহান্তেই শুটিংয়ে সময় দেন সাদনিমা। ধীরে সুস্থেই নিজের জায়গা তৈরি করতে চান এই অভিনেত্রী।
এমকে/টিএ