টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিমধ্যেই বহু দিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত স্বরূপ বিশ্বাস এবার প্রথমবার সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতেও তাঁর প্রভাব অটুট। তবে এবার সেই প্রভাবকে প্রমাণ করার পথে সরাসরি বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন টালিগঞ্জের সুপারস্টার এবং তৃণমূলের সাংসদ দেব।
দেব এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রিয় জুটি ‘দেশু’র পর তাদের পরবর্তী সিনেমায় মূল খলনায়ক চরিত্রে নেওয়া হচ্ছে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে। অনির্বাণকে টালিগঞ্জে ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ জারি করা হয়েছে স্বরূপের পক্ষ থেকে, যার ফলে তার কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবু দেব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিজের ছবিতে অনির্বাণকে নেওয়ার জন্য।
টালিগঞ্জের ফেডারেশন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরূপ, সব শিল্পী এবং প্রযুক্তিবিদদের নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের নির্দেশ মেনে না চললে কোনো শুটিং সম্পন্ন করা যায় না। অতীতে এই কারণে বহু ছবির শুটিং আটকে গেছে, প্রযোজকরা বিদেশে গিয়ে শুটিং করতে বাধ্য হয়েছেন। তবু দেব, সুপারস্টার হওয়া ছাড়াও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করার কারণে নিজের ইচ্ছামতো অভিনেতা নির্বাচন করছেন।
দেবের এই সিদ্ধান্ত শুধু চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় নয়, বরং রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ দেবের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সুসম্পর্ক এবং তার দলের ভিতরে প্রভাব তাকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিচ্ছে। তিনি যেহেতু স্ক্রিনিং কমিটির সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাই অনির্বাণকে নেওয়া আসলে স্বরূপের ‘অলিখিত ফতোয়া’কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতি পুরো টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনির্বাণকে প্রধান চরিত্রে নেওয়া হলে শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের ফেডারেশন সম্পর্কিত চাপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব কীভাবে বদলাবে, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেব এবং স্বরূপের এই দ্বন্দ্ব পরবর্তী সময়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজনৈতিক ভারসাম্যও প্রভাবিত করতে পারে।
পিআর/টিএ