ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও এনসিপির এক নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে এনসিপি নেতাসহ তিনজনকে ও এনসিপি নেতা বাদী হয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালের দৌরাত্ম্য, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গত বছরের ১২ নভেম্বর মানববন্ধন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। এতে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত।
ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন এনসিপির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক ও সদস্য মোজাম্মেল হক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত তিন মাস ধরে প্রশাসন, সুশীল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের লোকজন দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
এ অবস্থায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি সাধনের অভিযোগ এনে এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হককে (৩১) প্রধান আসামি করে তিনজনের নামে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেন। এতে হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড শাকিলকে (৩৮) প্রধান আসামি ছাড়াও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দুটি মামলা (আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী) দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়েছে।
এনসিপির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক ও সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে।
এখানে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পায় না। রোগীদের জোর করে দালালের মাধ্যমে নামসর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ওষুধ ও দামি ইনজেকশন বাইরে বিক্রি করা হয়। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। এতে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতালের দালাল চক্র ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গেলে আমার বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযমের নম্বরে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার জানান, একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। এ বিষয়ে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর অপর মামলার বিষয়ে পুলিশ নজরদারি করছে।
এবি/টিকে