আবারো আন্তর্জাতিক কোচিংয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি রুড ফন নিস্টেলরয়ের। ওল্ড ট্রাফোর্ড ছাড়ার পর লিস্টার সিটিতে সবশেষ কোচিং করান তিনি। এবার সাবেক এই স্ট্রাইকার রোনাল্ড কোম্যানের নেদারল্যান্ডস ব্যাকরুম স্টাফ দলে যুক্ত হচ্ছেন। তার অন্তর্ভুক্তিতে আগামী বিশ্বকাপে অরেঞ্জদের আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। এনিয়ে তৃতীয় মেয়াদে জাতীয় দলের কোচ হলেন তিনি।
নেদারল্যান্ডস জাতীয় দল তাদের নতুন সহকারী কোচ করেছে দুইবারের বর্ষসেরা ফুটবলার ফন নিস্টেলরয়কে। ৪৯ বছর বয়সী সাবেক ডাচ স্ট্রাইকার আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির টেকনিক্যাল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
নেদারল্যান্ডসের জার্সিতে ১৩ বছর খেলেছেন ফন নিস্টেলরয়। ৭০ ম্যাচে ৩৫ গোল করেছেন। ম্যানইউতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে অপরাজিত থাকার পর এরিক টেন হ্যাগের কাছে দায়িত্ব ছাড়ার পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব লিস্টারে যোগ দেন তিনি। এক বছরেরও কম সময় ক্লাবটির কোচ থাকার পর গত জুনে পদত্যাগ করেন।
ডাচ জাতীয় দলে নিজের ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফন নিস্টেলরয়, ‘ডাচ দলের এই ভূমিকায় ফিরে আসা এবং এই স্টাফ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দলের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান এবং একটি চমৎকার চ্যালেঞ্জ।’
প্রধান কোচ কোম্যান জানান, খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ক্ষেত্রেই ফন নিস্টেলরয়ের যে ‘মূল্যবান টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা’ রয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে তিনি মুখিয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘বড় আসরে চাপের মুখে কীভাবে পারফর্ম করতে হয়, সেটি নিস্টেলরয় ভালোভাবেই জানেন।’
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে গাস হিডিঙ্ক ও ড্যানি ব্লাইন্ডের অধীনে কাজ করেছিলেন ফন নিস্টেলরয়। পরে ২০২১ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য কোচিং স্টাফ দলে ফেরেন তিনি।
নেদারল্যান্ডস তাদের বাছাইপর্বের গ্রুপে একটি ম্যাচও না হেরে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। পুরো বাছাইপর্বে তাদের একমাত্র অপূর্ণতা ছিল পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে উভয় ম্যাচেই ড্র করা।
বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস বেশ চ্যালেঞ্জিং গ্রুপে পড়েছে। তাদের সঙ্গী জাপান, তিউনিসিয়া এবং পোল্যান্ড, ইউক্রেন, সুইডেন ও আলবেনিয়ার মধ্যে থেকে প্লে-অফ জয়ী যেকোনো একটি দল।
কাতারে গত আসরে নেদারল্যান্ডস কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছিল। সেই ম্যাচে খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় খেলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
আরআই/টিকে