শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পথকে আরও বেগবান করে তোলে। তাঁর রক্তাক্ত শার্ট পরিণত হয় স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতীকে, যা গণআন্দোলনের অনন্য প্রেরণায় রূপ নেয়। আসাদের শাহাদাতের পর স্বাধিকারের দাবিতে ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। ক্রমেই এই আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং তীব্র জনরোষের মুখে ১৯৬৯ সালের মার্চের শেষ দিকে পতন ঘটে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের।
দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শহীদ আসাদসহ দেশের জন্য আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী ও মুক্তিকামী মানুষের স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তাঁর ত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে যুগে যুগে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোও পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামানের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, যে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আসাদ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তার পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের দায়িত্ব।
কর্মসূচি :
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার শহীদ আসাদ দিবস পালিত হবে। সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশপথসংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে তাঁর পরিবারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিন শহীদ আসাদের জন্মস্থান নরসিংদীর শিবপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে।
এমআর/টিএ