বাড়ি থেকে মিঠুন চক্রবর্তীকে বের করে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা বসন্তকুমার চক্রবর্তী। একবার এমন মারধর করেছিলেন যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বাবা–ছেলের সম্পর্ক মোটেই ভালো ছিল না। তবুও আজ মনে হয়, সেই কঠোর ব্যবহার না থাকলে হয়তো আজকের মিঠুন চক্রবর্তী হয়ে ওঠা সম্ভব হতো না। তাই এখন বাবার কথা মনে পড়লে, কষ্টের চেয়ে কৃতজ্ঞতাই বেশি অনুভূত হয়।
এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন জানিয়েছেন, বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল তীব্র টানাপোড়েনের। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বাবার সঙ্গে মতের মিল ছিল না বললেই চলে। সেই কারণেই একদিন তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তখন ভীষণ রাগ ও অভিমানে ভরে গিয়েছিল মন। মা-কে বাবার সাফ কথা ছিল—“শান্তি, আমাদের একটাই ছেলে। যতদিন না সে নিজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততদিন সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।”
জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে ভাড়া বাড়িতে। সংগ্রাম আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কেটেছে তাঁদের। বহু লড়াইয়ের পর যখন মুম্বইয়ে প্রথম নিজের বাড়ি কেনেন মিঠুন, সেদিন মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে যান। বাড়ি দেখে বাবার প্রথম প্রশ্ন ছিল—এই বাড়ির ভাড়া কত? যখন বলা হয়, এটি ভাড়া নয়, তাঁদের নিজের বাড়ি—তখন বাবার চোখে জল চলে এসেছিল। সেই দৃশ্য আজও মিঠুনের মনে গভীর ছাপ ফেলে আছে।
মিঠুন আরও জানান, বাবার হাতে একবার এমন মার খেয়েছিলেন যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আজ ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, সেই কঠোর শাসনই তাঁকে শক্ত করে গড়ে তুলেছিল। বাবার সেই ব্যবহারই জীবনের বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করেছে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। তাই আজ অতীতের সেই কষ্টই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
এবি/টিএ