চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল হককে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিবি সূত্র জানিয়েছে।
সাবেক এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যাসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের জালিয়াতিরও অভিযোগ রয়েছে। জাহেদুলের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরায়। তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য।
পুলিশ জানায়, জাহেদুল হকের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা, ব্যাংক জালিয়াতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সৎ ভাইদের সম্পত্তি দখল করার মতো অভিযোগও রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, জাহেদুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মামলাগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জাহেদুল হকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পশ্চিম শাকপুরা এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসার ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বাড়ি ভাড়ার প্রায় ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তার সৎভাই নেছারুল হক। তারা সাবেক এই জনপ্রতিনিধির হাত থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। এদিকে ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম নগরের চিটাগাং ক্লাবে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে জাহেদুল হকের উপস্থিতির খবের অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ স্থানীয় লোকজন। এক পর্যায়ে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে পরের দিনই বিদেশে চলে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সূত্র জানায়, জাহেদুল হক চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া ও খুলশী থানায় জুলাই অভ্যুত্থানে হামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রাজধানীর ধানমন্ডি থানায়ও তার রিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামের আদালতে মামলা রয়েছে।
এসএস/টিএ