বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারি বা অন্যায় করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড হাসান নগর এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রবিউল বলেন, ‘দলের নামে দুর্বৃত্ত চলবে না, কারো অধিকার হরণ করা চলবে না, কারো ওপর চাপ প্রয়োগ করা চলবে না। দায় আমার। কোন রাজনৈতিক ছাত্রছায়া, কোনো নেতা যদি চাঁদা চায়, ধমক দেয় বা চাপ প্রয়োগ করে আমাকে জানাবেন। আমি বেবস্থা নিবো। বিএনপির নাম ব্যবহার করেও কেউ অন্যায় করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। কিশোর গ্যাং, মাস্তানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন কেউ করে পার পাবে না। রাষ্ট্রও এমন পরিস্থিতি প্রতিহত করবে।’
গ্যাস সংকট, রাস্তাপথ উন্নয়ন, খেলার মাঠ, মসজিদ এবং নাগরিক সেবা নিয়ে আশ্বাস দিয়ে রবিউল বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব সমস্যার নীতিগত ও টেকসই সমাধান করা হবে।’
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের ভোট শুধু উন্নয়নের ভোট নয় এটা রাষ্ট্র কীভাবে চলবে, সেই সিদ্ধান্তের ভোট। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, আমরা জনপ্রতিনিধিরা সেবক। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, ‘নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ভোট দিবেন। আপনাদের অধিকার বাস্তবায়ন করবেন।’
এদিকে, রাজধানী ধানমন্ডির এআর প্লাজায় ওয়াটারফল কনভেনশন হলে আরেকটি সভায় রবিউল বলেন, ‘নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেয়, তখনই রাজনীতিতে ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু নাগরিক নন, আপনারা রাষ্ট্রের মালিক ও রাষ্ট্র নির্মাতা। একজন নাগরিক হিসেবে যেমন আপনার দায়িত্ব আছে, তেমনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও রাষ্ট্র গঠনে আপনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিএনপির ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতির কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির । এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলেই রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।’
এসএস/টিএ