টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাস বাকি। এই মুহূর্তে টুর্নামেন্টের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে তার প্রভাব কতটা ব্যাপক হতে পারে, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও তেলেঙ্গানার মন্ত্রী মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের মতে, আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ভারতে না যায়, তার ক্ষতি হবে বাংলাদেশেরই।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজহারউদ্দিন বলেন, ‘ওরা যদি না আসে, তাহলে সেটা তাদেরই ক্ষতি। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করার কোনো কারণ নেই। এখানে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ হচ্ছে, কোনো দলই সমস্যা দেখেনি। নিউজিল্যান্ড এখন খেলছে, দক্ষিণ আফ্রিকাও সম্প্রতি সিরিজ খেলেছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিযোগ করা যৌক্তিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপের ম্যাচের স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত, তাই এখন ম্যাচ স্থানান্তর করা খুব কঠিন।’
আজহারউদ্দিনের মন্তব্য আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে। বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগকে কারণে উল্লেখ করে আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল, যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুত্ববাদীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে বিসিসিআই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় ২০২৬ আইপিএল মৌসুমের আগে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে। যদিও বিসিসিআই সরাসরি কারণ প্রকাশ করেনি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
তবে ২১ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইসিসি বিসিবির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। ২২ জানুয়ারি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিশ্চিত করেছেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড়-তারা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না।
২৪ জানুয়ারি ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে সেই স্থানে স্কটল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আইসিসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
পুরনো সূচি অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি ইডেন গার্ডেন্সে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। এরপর ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইতালি ও ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি হবে মুম্বাইয়ে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল।
পিএ/টিকে