চট্টগ্রামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নগরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর শীর্ষ এই নেতার আগমন দেখতে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকেই শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জড়ো হন হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক। তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে হোটেলের উদ্দেশে রওনা দিলে সড়কের দুই পাশে মানষের ঢল নামে।
এই বিশাল জনসমাগমের মাঝেই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য সবার দৃষ্টি কাড়ে। কাজির দেউরি এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধা নারী— যার বয়স আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে— নীরবে দুই হাত তুলে মোনাজাত করতে থাকেন। হাজারো স্লোগান, উচ্ছ্বাস আর করতালির ভিড়ে তার এই নিঃশব্দ প্রার্থনা মুহূর্তেই উপস্থিত অনেকের মনে দাগ কাটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারেক রহমানের গাড়িবহর কাজির দেউরি এলাকায় পৌঁছালে তিনি গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। সে সময়ই বৃদ্ধা নারীটি আরও আবেগাপ্লুত হয়ে মোনাজাতে মগ্ন হন। তার চোখে ছিল আনন্দ আর আশার মিশ্রণ— যেন দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত কাউকে একনজর দেখার তৃপ্তি।
এই বয়সে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে একবার দেখতে আসা— এই ঘটনাই তাকে মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। অনেক নেতাকর্মী মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বৃদ্ধা নারীর মোনাজাতের দৃশ্য। তবে ঘটনাস্থলেই ওই বৃদ্ধা নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা যুবদলের নেতা নজরুল ইসলাম রবিন বলেন, ‘আমি হঠাৎ করে উনাকে দেখি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া একজন মা হয়েও তিনি তারেক রহমানকে দেখতে এসেছেন দৃশ্যটা খুব আবেগী ছিল। এরপর থেকে আমরা উনার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত উনার পরিচয় পাওয়া যায়নি।’
রাজনীতির মাঠে যেখানে অধিকাংশ সময় স্লোগান, মিছিল আর শক্তি প্রদর্শনের ছবি চোখে পড়ে, সেখানে এক বৃদ্ধা নারীর নীরব মোনাজাত যেন ভিন্ন এক বার্তা দেয়। এই দৃশ্য অনেকের কাছে রাজনীতির প্রতি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস আর প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
হাজারো মানুষের ভিড়ে সেই অচেনা বৃদ্ধা নারী এখন চট্টগ্রামের রাজনীতির আলোচনায় এক নীরব অথচ শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি।
ইউটি/টিএ