‘জান্নাতের টিকিট আর বিকাশ নম্বর’—এমন মন্তব্য করে জামায়াতকে তীব্র সমালোচনা করার মধ্য দিয়ে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। এমনকি নরসিংদীতে ভূমিকম্পের জন্য জামায়াতকে দায়ী করতেও ছাড়েননি তিনি। তবে ২৪ ঘণ্টা পেরোতেই সুর নরম হয় তার। চট্টগ্রামে এসে তারেক রহমান এবার বলছেন, ‘প্রতিপক্ষের ভুলত্রুটি তুলে ধরলে জনগণের লাভ হয় না।’
অন্যদিকে, তারেক রহমানের সমালোচনার কড়া জবাব এসেছে জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে। উত্তরাঞ্চলের নির্বাচনী সভা থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বাক্সের মুখ খুলতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’ সিরাজগঞ্জের এক জনসভায় এনসিপি প্রার্থী সাইফ মোস্তাফিজ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘জনগণ কি আবারো হাওয়া ভবন আর আয়নাঘর দেখতে চায়?’ একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে আর খাওয়া যাবে না। সব সত্য ফাঁস করে দেবো।’
২৬-এর নির্বাচনী ডামাডোল এভাবেই শুরু হয়েছে। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি এবং জামায়াত এখন একে অপরের মুখোমুখি। জামায়াত এখন ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বে, যেখানে তাদের সঙ্গী হয়েছে জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের দল ‘এনসিপি’। অন্যদিকে, বিএনপি জোটে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ ও জমিয়তসহ বেশ কিছু দল।
১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর তারেক রহমানকে ঘিরে জনগণের ঢল নামছে। যেখানেই যাচ্ছেন, তার বুলেটপ্রুফ বাস ঘিরে থাকছে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তবে প্রচারণার মাঝে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। মিরপুরে জামায়াত আমিরের নির্বাচনী আসনে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ সময় পর ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে সরকার। এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি নতুন ভোটার। এই তরুণ প্রজন্মই রাজপথে থেকে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার মূল কারিগর ছিল। ২৪-এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে আছেন। নিষিদ্ধ হয়েছে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও স্থগিত।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপির স্লোগান ‘সবার আগে দেশ’, আর জামায়াতের ডাক ‘চলো একসাথে গড়ি দেশ’। অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী লড়াই শুরু হলেও, তারেক রহমান আপাতত সংঘাত এড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে জামায়াত কি থামবে? যাত্রাবাড়ীর সর্বশেষ বক্তব্যে জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে সরাসরি ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ দেখানো হবে। জবাবে চট্টগ্রাম থেকে তারেক রহমানও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—দুর্নীতির টুটি চেপে ধরা হবে।