স্রেফ ভোট নয়, তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন হল গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধ। সিবিআই জেরা সামলে এসে এইভাবেই হুঙ্কার দিলেন থালাপতি বিজয় (Thalapathy Vijay)। অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে পুরোদমে নেমে পড়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার। তার পরেই বারদুয়েক বিজয়কে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। তারপর রবিবার মমল্লপুরমের একটি দলীয় সভায় বিজয়ের হুঙ্কার, চাপের মুখে মোটেই মাথা নত করবেন না তিনি। দলীয় কর্মীদের কমান্ডো বলেও অভিহিত করেছেন বিজয়।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট সংখ্যক প্রার্থী দিয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করবে বিজয়ের দল টিভিকে। তার আগেই আটকে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণী তারকার শেষ ছবি জন নয়াগণের মুক্তি। কারুর পদপিষ্ট কাণ্ডে সিবিআই তলব করেছে তাঁকে। এর মধ্যেই রবিবার মমল্লপুরমে অন্তত তিনহাজার দলীয় নেতাকে নিয়ে সভা করেন বিজয়। সিবিআই ‘হেনস্তা’ নিয়ে সেখানেই প্রথমবার মুখ খুলে কার্যত রণহুঙ্কার দেন সুপারস্টার। ‘ঝুঁকেগা নেহি’ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “যতই চাপ দিক না কেন, আমরা আত্মসমর্পণ করব না। কিছুতেই মাথা নোয়াব না।”
নাম না করে বিজেপিকে বিঁধে বিজয় বলেন, “তামিলনাড়ুর ভোট স্রেফ একটা নির্বাচন নয়। এটা আসলে গণতান্ত্রিক যুদ্ধ। আর আপনারা সকলে আমার কমান্ডো, আপনারাই যুদ্ধ করবেন।”
জানা গিয়েছে, সোমবার থেকেই গোটা রাজ্যজুড়ে প্রচারে নামবেন টিভিকের নেতাকর্মীরা। ২৩৪টি আসনের কতগুলিতে বিজয়ের দল প্রার্থী দেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত কোনও দলের সঙ্গেই বিজয় জোট বাঁধেননি। তবে ইন্ডিয়া-এনডিএ দুই পক্ষকেই তুলোধোনা করেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার।
রাজনৈতিক মহল বলছে, বিজয়ের সঙ্গে জোটে আগ্রহীর সংখ্যা নেহাত কম ছিল না। তবে বিজয়ের বিরুদ্ধে সিবিআই ‘সক্রিয়’ হয়ে ওঠার পরে কংগ্রেস পিছু হঠে। নিঃশর্তভাবে ডিএমকের সঙ্গেই জোটে থাকছেন রাহুল গান্ধীরা। বিজয়ের সমর্থনে টুইট করলেও রাহুল শেষ পর্যন্ত জোট করছেন না। অন্যদিকে, বিজেপিও নাকি থালাপতির সঙ্গে জোটে আগ্রহী ছিল। কিন্তু বিজয় সেই জোটে একেবারেই আগ্রহ দেখাননি। তারপরেই আটকে যায় জন নয়াগণের মুক্তি। সিবিআইয়ের ‘রোষে’ পড়েন বিজয়। তবে একেবারে নায়কের মেজাজেই যাবতীয় চ্যালেঞ্জ সামলানোর হুঙ্কার দিচ্ছেন থালাপতি।
এমআই/এসএন