ওয়াশিংটনকে ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে পৌঁছনোর পর তিনি বুধবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
কাতারভিত্তিক আল–জাজিরা টেলিভিশনকে ইংরেজিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা চালানো ভুল। আবার যুদ্ধ শুরু করাও ভুল।
ইরান আবার পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা করতে প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, ‘আমার পরামর্শ সবসময়ই আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের প্রতি, ইরানিদের সঙ্গে বিষয়গুলো একে একে নিষ্পত্তি করুন। পরমাণু ইস্যু দিয়ে শুরু করুন এবং সেটি বন্ধ করুন। তারপর অন্য বিষয়গুলোতে যান।’
ফিদানের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন একটি বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-হামলা বহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান নিয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, যদিও সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানে কয়েক দিনের মধ্যেই হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পরও ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেনি।
চলতি মাসের শুরুতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ইরান দমন অভিযান শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হস্তক্ষেপের বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়ে আসছেন।
ন্যাটো সদস্য তুরস্ক, যার সঙ্গে ইরানের ৫৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছে। আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ইরানের সঙ্গে সমস্যাগুলো আলাদাভাবে মোকাবেলা করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘সব বিষয় এক প্যাকেটে দেখবেন না। সবকিছু একসঙ্গে রাখলে আমাদের ইরানি বন্ধুদের জন্য তা হজম করা এবং সত্যিকার অর্থে প্রক্রিয়াজাত করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে এটি তাদের কাছে অপমানজনকও মনে হতে পারে। শুধু নিজেদের কাছে নয়, বরং তাদের নেতৃত্বের কাছেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে।’
ফিদান ইরানকে আঞ্চলিক পর্যায়ে আস্থা গড়ে তোলার আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে আমি যখন ইরানে ছিলাম, তখন আমার ইরানি বন্ধুদের সঙ্গে খুব খোলাখুলি কথা বলেছি। তাদের আঞ্চলিক পর্যায়ে আস্থা তৈরি করতে হবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের কীভাবে দেখছে, সে বিষয়ে তাদের মনোযোগ দিতে হবে।’
আইকে/টিএ