ভোটের মাঠে এখন শুধু স্লোগান নয়, নির্বাচনী থিম সং হয়ে উঠেছে দলগুলোর আবেগী পরিচয়। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নান্দনিক প্রচার কৌশলে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো।
কখনো সংগ্রামের স্মৃতি, কখনো উন্নয়নের স্বপ্ন আবার কখনো পরিবর্তনের ডাক; সবই গাঁথা রয়েছে কয়েক মিনিটের থিম সংয়ে। এক সময় মাইকিং, পোস্টারিং ছিল ভোটের মাঠের চেনা রূপ। সময়ের সঙ্গে ধরন পাল্টেছে, বদলেছে প্রচারণা কৌশল। এখন প্রচারণার সবচেয়ে বড় মাধ্যম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও দলীয় গান।
আর এ প্রচারণায় শুরুর দিনই 'থিম সং' প্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। থিম সংয়ের শিরোনাম‘ভোট দিবেন কিসে, ধানের শীষে’। এ শিরোনামে ভোটারদের কাছে সহজেই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে দলটি। বিএনপির এ থিম সং প্রকাশের পর থেকেই ভোটের মাঠে চলছে উৎসবের আমেজ। গানটি দ্রুত লুফে নিয়েছেন তরুণরাও।
অনানুষ্ঠানিকভাবে বেশ কয়েকটি থিম সং প্রচার করছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমর্থকরা। তাদের দলীয় গানের বিভিন্ন ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে জামায়াতে আমির, বিভিন্ন মিছিল-মিটিং ও দলটির প্রতীক। দাড়িপাল্লার একাধিক গান ঘিরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উচ্ছ্বাস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টিও। ‘ভোটের মিছিলে আমার প্রতীক শাপলা কলি’ শিরোনামের থিম সংটিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ থিম সংয়ের ভিডিওতে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, দলটির প্রচারণা, পদযাত্রা ও বাংলার মানুষের যাপিত জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ভোটারদের উৎসাহী করতে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ থিম সং। পাশাপাশি নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে দেশের আট বিভাগের জন্য আটটি গান তৈরি করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যা সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক দলের নতুন থিম সংয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে সহজ সাবলীল শব্দ, উৎসবের সুর, আধুনিক সংগীতায়োজন আর বলিষ্ঠ তরুণ কণ্ঠ। যে কারণে নির্বাচনী থিম সংগুলো এখন শুধু প্রচারণা নয়, হয়ে উঠেছে সময়ের মনস্তত্ত্বের এক নান্দনিক দলিল।
আইকে/টিকে