গুতেরেসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মোট পাওনার মাত্র ৭৭ শতাংশ ফি আদায় হয়েছে। অনেক দেশ হয় ফি দিচ্ছে না, নয়তো দিতে দেরি করছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘ ‘দেউলিয়া’ হয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
সদস্য দেশগুলো নিয়মিত বাধ্যতামূলক ফি না দেওয়াতে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘ 'দেউলিয়া' হয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে লেখা এক চিঠিতে গুতেরেস জানিয়েছেন, বর্তমান আর্থিক সংকট সংস্থাটির কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, হয় সব সদস্য দেশ সময়মতো ফি পরিশোধ করুক, নয়তো সংস্থার আর্থিক নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনুক। তা না হলে এই আসন্ন পতন ঠেকানো সম্ভব হবে না।
জাতিসংঘের তহবিলের সবচেয়ে বড় উৎস হলো যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন সংস্থাটির নিয়মিত বাজেট ও শান্তিরক্ষা মিশনে আর্থিক বিনিয়োগে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন করদাতাদের অর্থ এভাবে নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।
এ ছাড়া তিনি বেশকিছু সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন। গত সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে বেরিয়ে গেছে দেশটি। গুতেরেসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মোট পাওনার মাত্র ৭৭ শতাংশ ফি আদায় হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। অনেক দেশ হয় ফি দিচ্ছে না, নয়তো দিতে দেরি করছে।
তহবিল সংকটে জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়েও এখন কৃচ্ছ্রসাধন চলছে। সেখানে খরচ কমাতে এস্কেলেটর বা চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি শীতের মধ্যেও ভবনের হিটিং সিস্টেম বা ঘর উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বত্র সতর্কতামূলক নোটিশ টাঙানো হয়েছে।
গুতেরেস তাঁর চিঠিতে একটি অদ্ভুত সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ করা অর্থ সময়মতো খরচ করতে না পারলে তা সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দিতে হয়।
গুতেরেস বলেন, 'আমরা অনেক অর্থই আদতে পাইনি, কিন্তু নিয়ম রক্ষার জন্য সেই না পাওয়া অর্থই সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দিতে হচ্ছে। চলতি মাসেই এভাবে প্রায় ২৩ কোটি ডলার ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছি আমরা।'
তবে তহবিলের এই অভাবের বিশাল মূল্য দিতে হচ্ছে বিশ্বের সাধারণ মানুষদের। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, তহবিলের অভাবে তারা এখন আর যুদ্ধাপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্ত করতে পারছে না।
এর প্রভাব পড়ছে মানবিক সহায়তার ওপরও। আফগানিস্তানে প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সুদান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের খাবারের বরাদ্দ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
এসকে/টিকে