ছবিতে গান ছাড়ার ঘোষণা করে চমকে দিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে। এ বার তাঁকে ঘিরে নতুন আর এক আলোচনা দিনদুয়েক ধরে প্রায় সকলের মুখে। অরিজিৎ সিংহ নাকি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন! সত্যিই কি তেমন কিছু ঘটতে চলেছে?
চার দিন আগে আচমকা অরিজিৎ সিংহ ঘোষণা করেন, তিনি ছবির জন্য আর গান গাইবেন না। তা নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ। দিন দুই যেতে না যেতেই গায়ককে ঘিরে নতুন গুঞ্জন, অরিজিৎ নাকি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন!
সামনেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। ভোট সামনে এলে কোনও না কোনও দলে তারকাদের যোগদানের ঘটনা গত কয়েক বছর ধরে এ রাজ্যের রাজনীতিতে চেনা ছবি হয়ে উঠেছে। সেই তালিকায় কি এ বার অরিজিৎ সিংহও? নাকি পুরোটাই জল্পনা? রাজনীতিতে যোগদান প্রসঙ্গে অরিজিতের সঙ্গে কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শোনা যাচ্ছে, তাঁর প্রথম হিন্দি ছবির দ্বিতীয় পর্বের শুটিং নিয়ে তিনি ব্যস্ত।
বিষয়টি নিয়ে কি আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলেও? জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল রাজ্যের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে। কী বলছেন তাঁরা? তিনজনেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্ব থেকে এ রকম কোনও খবর তাঁরা পাননি। তবে এ রকম গুঞ্জন যে ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা ওয়াকিবহাল। দিলীপ যেমন বলেছেন, “এ রকম কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে আমাদের জানানো হত। সে রকম কিছুই জানানো হয়নি। ফলে, এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।”
অরিজিতের মতো রাজনীতি থেকে বরাবর শতহস্ত দূরে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে ‘রাজনীতি’ শব্দটা জুড়ল কী করে? মুর্শিদাবাদের বিধায়ক খুব কাছ থেকে দেখেছেন জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা তারকা গায়ককে। তাঁর কথায়, “অরিজিৎ অত্যন্ত মানবদরদী। তিনি গোপনে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। নিজের জেলাকে হাতের তালুর মতো চেনেন। জেলার ভালমন্দের খবর রাখেন। গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়তো এখান থেকেই।” পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, অরিজিতের মতো খ্যাতনামী যদি বিজেপিতে যোগ দেন, তা হলে তাঁর থেকে ভাল আর কিছুই হতে পারে না। গায়কের প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং মানবদরদী মনোভাব নিজের পিছিয়ে পড়া জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে।
কিন্তু রাজনীতি- এই বিষয়টির সঙ্গে অরিজিৎ কতটা মানানসই? আর এক বিজেপি নেতা রুদ্রনীলের যুক্তি, “অরিজিৎ কিন্তু বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের নানা ডামাডোল নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন। আরজি কর আন্দোলনের সময়ে গান বেঁধেছিলেন। একই ভাবে তাঁর এক্স হ্যান্ডল-এ (সাবেক টুইটার) বিভিন্ন রাজনৈতিক মতামতও কিন্তু দেখা গিয়েছে।” তাঁর সেই বক্তব্য পড়ে অভিনেতা-রাজনীতিবিদের মনে হয়েছে, বাংলায় ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরোধী তিনি। তাঁর কথায়, “হয়তো সেই জন্যই তিনি বিজেপি-তে যোগ দেবেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।”
কথায় আছে, যা রটে তার কিছুটা তো বটে! এই আপ্তবাক্য মানলে সত্যিই কি আগামী দিনে রাজনীতির আঙিনায় অভিষেক ঘটবে অরিজিতের?
তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “নির্বাচনের আগে এ রকম গুঞ্জন প্রতি বার ছড়ায়। অমুক তারকা তমুক দলে যোগ দিচ্ছেন, চায়ের কাপে তুফান ওঠে। তাই সময় বলবে, ঘটনা সত্যি না মিথ্যা।” অরিজিৎকে নিয়ে শাসকদল কি কিছু ভাবছে? রচনার কথায়, “এ বিষয়ে বলতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”
এবি/টিএ