ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের জন্য ৬০ কোটি ভারতীয় রুপি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এই প্রস্তাব পেশ করেন।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। যদিও গত বছরের মূল বাজেটে শুরুতে ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দের কথা ছিল, তবে পরবর্তীতে তা কমিয়ে আনা হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী এই সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে কম অনুদান পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাজেট নথি অনুযায়ী, বরাদ্দের দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে ভুটান। দেশটির জন্য ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৫৬ লাখ রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ অনুদান এবং বাকিটা ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে নেপাল এবং মালদ্বীপ অবস্থান করছে। নেপাল ৮০০ কোটি রুপি এবং মালদ্বীপ ৫৫০ কোটি রুপি পেতে যাচ্ছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার জন্য ৪০০ কোটি, মিয়ানমারের জন্য ৩০০ কোটি এবং আফগানিস্তানের জন্য ১৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুদান কমে যাওয়ার পেছনে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান একটি বড় কারণ। বর্তমানে অনেক দেশই অনুদান কমিয়ে সহজ শর্তের বদলে কঠিন শর্তে ঋণ দেওয়ার দিকে ঝুঁকছে। ভারতও বিগত এক দশক ধরে বাংলাদেশকে মূলত লাইন অফ ক্রেডিট বা এলওসি-র আওতায় ঋণ দিয়ে আসছে। ১ ফেব্রুয়ারি পেশ করা ভারতের এবারের ৫৩ দশমিক ৫০ লাখ কোটি রুপির এই বিশাল বাজেটের আকার গত বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। উল্লেখ্য যে, ভারতে নতুন অর্থবছর আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এসকে/টিএ