আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ধারণার কথা জানান তিনি।
নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে সাক্ষাৎকারে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই একমাত্র বাকি কাজ।
তিনি বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এত বড় পরিসরে বাহিনী মোতায়েন এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত ভোটকে ঘিরে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা যায়নি। নির্বাচন আয়োজনে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে এরপর এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে আমার ধারণা। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন এমন পরিবেশ তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জুলাই সনদের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে একইদিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১৬টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি সব আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পেপার পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনী আংশিকভাবে মোতায়েন শুরু হয়েছে।
নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ব্যাপকভাবে মাঠে নামানো হচ্ছে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন মোট ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মূলত, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন তারা। পাশাপাশি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও একই সময়সীমায় সাত দিন মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে, জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী সংখ্যা আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে ইসি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানিয়েছে, ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আইকে/টিকে