শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনকালে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রনির সুস্থতা কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহিউদ্দিন রনির ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে দোয়া চেয়ে লিখা হয়েছে, ‘প্রে ফর মহিউদ্দিন রনি’।
এর আগে মহিউদ্দিন রনির শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে একই পেজ থেকে দেয়া আরেকটি পোস্টে জানানো হয়, মহিউদ্দিন রনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে আছে। তার অবস্থা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের পর থেকে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী ও ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে রাতভর তারা সেখানে অবস্থান করেন।
সবশেষ শুক্রবার দুপুরের পর শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেত্রী ফাতেম তাসনিম জুমা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের একাংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হলে বাধা দেয় পুলিশ। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে আন্দোলনের পর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের আহ্বান এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আন্দোলনকারীরা এই সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ মোড় ছেড়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এরপর থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এসএস/টিএ