একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ নেতারা।
শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) দু’দেশের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় চুক্তিটি সই হয়। এর তিন মাস আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো চুক্তি নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। ওই আলোচনায় ১৯৯৫ ও ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী নিরাপত্তা চুক্তিগুলোর কার্যকর ব্যবহার আরও বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
মেরদেকা প্যালেসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আলবানিজ বলেন, এই চুক্তি বিদ্যমান নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের অংশীদারিত্বের শক্তি এবং পারস্পরিক আস্থার গভীরতা তুলে ধরে। এই চুক্তি ইঙ্গিত দেয় যে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।’
বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাকার্তায় পৌঁছান আলবানিজ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশে তার পঞ্চম সরকারি সফর। তার দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তার এই সফর।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে তারা বলছেন, এটি অনেকটাই ১৯৯৫ সালের নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিধ্বনি। ওই চুক্তিতে নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যৌথ প্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ১৯৯৯ সালে পূর্ব তিমুরে অস্ট্রেলিয়া নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর পর ইন্দোনেশিয়া সেই চুক্তি বাতিল করে। পরে ২০০৬ সালের লম্বক চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক পুনর্গঠন হয়, যা ২০১৪ সালে সম্প্রসারিত হয়।
এসএস/টিএ