© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রথম কাজ করে কত টাকা মাইনে পেয়েছিলেন অমিতাভ?

শেয়ার করুন:
প্রথম কাজ করে কত টাকা মাইনে পেয়েছিলেন অমিতাভ?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৪৮ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
আজ তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। কয়েক দশক ধরে অভিনয়ের দাপটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শিল্পের শীর্ষে। কিন্তু সাফল্যের এই দীপ্ত অধ্যায়ের অনেক আগেই ছিল সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা আর অভাবের দিন। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত লেখায় সেই সাদাকালো দিনের স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে নস্টালজিয়ায় ডুব দিলেন অমিতাভ বচ্চন।

বর্তমানে যিনি কোটি কোটি দর্শকের কাছে কিংবদন্তি, সেই মানুষটির জীবনের এক সময় কেটেছে সাধারণ চাকরিজীবী হিসেবে। উনিশশো আটষট্টি সালে মুম্বইয়ের ঝলমলে জগত থেকে বহু দূরে কলকাতার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন লম্বা ছিপছিপে এক তরুণ। মাস শেষে তাঁর হাতে আসত মাত্র এক হাজার ছয়শ চল্লিশ টাকা বেতন। সেই সামান্য অর্থে সংসার তো দূরের কথা, নিজের নিত্যদিনের খরচ সামলানোই ছিল কঠিন।



কলকাতার সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি জানান, তখন আটজন বন্ধু মিলে দশ ফুট বাই দশ ফুটের একটি ছোট ঘরে থাকতেন তারা। সাদামাটা জীবন, অল্প আয় আর সীমাহীন স্বপ্ন এই তিনেই গড়ে উঠেছিল তাদের দিনযাপন। কাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়ানোই ছিল একমাত্র বিনোদন। অনেক সময় শহরের নামী রেস্তোরাঁগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ভাবতেন, একদিন হয়তো তারাও ভেতরে বসে খাওয়ার সামর্থ্য অর্জন করবেন।

তবে সেই সময় সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল পেটের ক্ষুধার সঙ্গে। হাতে টাকার টান থাকায় পেট ভরে খাবার জোটানোই ছিল কঠিন। তখনই এক পরিচিতের পরামর্শে তিনি প্রায়ই চলে যেতেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-এর সামনে। সেখানে অল্প টাকায় পেট ভরে খাওয়ার জন্য তাঁর ভরসা ছিল রাস্তার ধারের ফুচকা। সেই খাবারই অনেক সময় ক্ষুধার কষ্ট ভুলিয়ে দিত।

পুরনো দিনের কথা মনে করে অভিনেতা জানান, কখনও কখনও মন ভালো থাকলে বড় বড় রেস্তোরাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরীদের মজা করে বলতেন একদিন সময় বদলালে তাদের খোঁজ নেবেন। যদিও বাস্তবে সেই কথা আর বলা হয়নি।

এরপর উনিশশো ঊনসত্তর সালে চলচ্চিত্রে সুযোগ আসে সাত হিন্দুস্তানি ছবির মাধ্যমে। সেই পথ ধরেই ধীরে ধীরে শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায়। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সাফল্যে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অবিচ্ছেদ্য নাম।

তবু সময়ের সঙ্গে বদলে গেলেও মুছে যায়নি স্মৃতি। আজও কাজের সূত্রে যখন কলকাতায় আসেন, তখন নাকি ভিড়ের আড়ালে সেই পুরনো গলি আর চেনা পথগুলোতে খুঁজে ফেরেন নিজের যৌবনের দিনগুলোকে। শহর বদলেছে, জীবনও বদলেছে অনেক। কিন্তু ভিক্টোরিয়ার ফুচকার স্বাদ আর মেসবাড়ির সেই সংগ্রামের স্মৃতি তাঁর কাছে এখনও অমূল্য সম্পদ। তাঁর কথায়, স্মৃতি আর ভালোবাসা কখনও ম্লান হয় না।

পিআর/টিকে


মন্তব্য করুন