© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সংগীতের কোনো সীমানা নেই, বরং মানুষকে একত্রিত করে: রুনা লায়লা

শেয়ার করুন:
সংগীতের কোনো সীমানা নেই, বরং মানুষকে একত্রিত করে: রুনা লায়লা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫৬ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
বাংলাদেশের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা মনে করেন, সংগীতের রয়েছে এক অসাধারণ নিরাময় ক্ষমতা, যা মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে দেয় এবং ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে সবাইকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে।

প্রায় দুই দশক পর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সফর করতে যাচ্ছেন রুনা লায়লা। আগামী ৪ থেকে ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর ১৫তম আসরে তাকে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত করা হবে। তার আগে ঢাকা থেকেই ভারতীয় পত্রিকা ‘দ্য হিন্দু’-কে মুঠোফোনে এক সাক্ষাৎকার দেন রুনা লায়লা।



দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতচর্চায় থাকা রুনা লায়লা বলেন, “সংগীতের মধ্যে এক ধরনের ঐশ্বরিক শক্তি রয়েছে, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হৃদয়ে পৌঁছাতে পারে। সংগীত কোনো সীমান্ত বা প্রাচীর মানে না, বরং মানুষকে একত্রিত করে।”

তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতাঙ্গনের দুই মহাতারকা লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে–কে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, তারা ছিলেন এই অঞ্চলের সংগীতের ‘স্তম্ভ’। তাদের প্রয়াণ সংগীতজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।

রুনা লায়লার সংগীতজীবন শুরু হয় খুব অল্প বয়সে। ১২ বছর বয়সেই গান রেকর্ডিং শুরু করেন তিনি এবং ষাটের দশকে পাকিস্তানি টেলিভিশনে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের জন্ম হলে তিনি ফিরে আসেন নিজের শিকড়ে।

‘দ্য হিন্দু’ও প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে রুনা লায়লার প্রথম সফর ছিল ১৯৭৪ সালে, ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস’–এর আমন্ত্রণে। সেই সময় তিনি বিস্মিত হয়ে দেখেন, পাকিস্তানে গাওয়া তার গানগুলো ইতোমধ্যেই ভারতীয় শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি বলেন, এটি ছিল সংগীতের সীমাহীন শক্তির একটি বড় প্রমাণ।

পরবর্তীতে ভারতে তার নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয় এবং তিনি বলিউডের একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এক সে বধকর এক, ঘারুন্দা ও অগ্নিপথ। তার গাওয়া ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ গানটি আজও অমর হয়ে আছে শ্রোতাদের হৃদয়ে।

সম্প্রতি তিনি কোক স্টুডিওতে এই গানটি নতুনভাবে পরিবেশন করে আবারও ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

আসন্ন দিল্লি সফর প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, তিনি শেষ কবে দিল্লি গিয়েছিলেন তা মনে করতে পারছেন না। যদিও কাজের সূত্রে কলকাতায় তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননাকে তিনি একটি ‘চমৎকার উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ সংগীতই পারে মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করতে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আশা ভোঁসলের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণও করেন। জানান, প্রথমবার দেখা হলে তিনি পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আশা ভোঁসলে তাকে আলিঙ্গন করে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন। এমনকি নিজ হাতে রান্না করে তাকে আপ্যায়নও করেছেন একাধিকবার।

রুনা লায়লা বলেন, “লতা দিদি ও আশা দিদি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তাদের মতো শিল্পীর অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়।”

সূএ:  দ্য হিন্দু

পিআর/টিএ


মন্তব্য করুন