ভেনেজুয়েলা চালাবে আমেরিকা : ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর এক বিস্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, “নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে।” নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘গ্রেপ্তার’ করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগে বিচার চলবে বলেও জানান তিনি।

হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহ “আমেরিকার সার্বভৌমত্বকে হুমকি দেওয়া বা আমেরিকান নাগরিকদের বিপন্ন করার চেষ্টা করলে তার কী পরিণতি হতে পারে” তাঁর স্পষ্ট বার্তা। তাঁর ভাষায়, “আমেরিকান নৌবহর এখনও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত দাবি পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ সব সামরিক বিকল্প আমাদের হাতে থাকবে।”

ট্রাম্প আরও সতর্ক করে দেন যে, ভেনেজুয়েলার সমস্ত রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া। “মাদুরোর সঙ্গে যা হয়েছে, সেটাই অন্যদের সঙ্গেও হতে পারে যদি তারা নিজেদের জনগণের প্রতি ন্যায়সঙ্গত ও ন্যায্য আচরণ না করে,” বলেন তিনি।

এরপর বক্তব্য রাখেন মার্কিন ‘সেক্রেটারি অফ ওয়ার’ পিট হেগসেথ। তিনি মার্কিন সেনা ও প্রেসিডেন্টের প্রশংসায় বলেন, “আমেরিকা যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময় নিজের ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করতে পারে সমন্বয়, গোপনীয়তা, নিখুঁত আঘাত এবং ন্যায়বিচার সবকিছুই গত রাতের অভিযানে প্রমাণিত।” তাঁর ঘোষণা, “২০২৬-এ স্বাগত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমেরিকা আবার ফিরে এসেছে।”

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা ক্রমশই “আমাদের অঞ্চলে বিদেশি প্রতিপক্ষ শক্তিকে আশ্রয় দিচ্ছিল” এবং “ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অস্ত্র সংগ্রহ করছিল”, যার কিছু নাকি রাতের অভিযানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আগের প্রশাসনগুলিকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “তারা এই গোলার্ধে নিরাপত্তা হুমকিকে উপেক্ষা করেছে বা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আমরা আমাদের ঘরের উঠোনেই আমেরিকান শক্তিকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করছি।”

ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই হস্তক্ষেপ মার্কিন তেল সংস্থাগুলোর জন্য নতুন দরজা খুলে দেবে। “ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই একেবারে ভেঙে পড়েছিল। তারা প্রায় কিছুই উৎপাদন করছিল না,” মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন তেল সংস্থাগুলি সেখানে ঢুকে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশের জন্য আয় সৃষ্টি করবে।

মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে “অপ্রতিরোধ্য প্রমাণ” রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “এই অপরাধগুলি একদিকে যেমন ভয়াবহ, তেমনই বিস্ময়কর।” তিনি অভিযোগ করেন, মাদুরো ক্ষমতায় টিকে থাকতে আমেরিকার বিরুদ্ধে হিংসা, সন্ত্রাস ও অন্তর্ঘাতের ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছেন, যা শুধু মার্কিন জনগণ নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেই বিপন্ন করেছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শাসন করবে, তবে তা স্থায়ী নয়। “আমরা দেশটা চালাব, যতক্ষণ না নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে। আমরা চাই না, অন্য কেউ এসে আবার আগের মতোই পরিস্থিতি তৈরি করুক,” বলেন তিনি।

এই সামরিক অভিযানকে ট্রাম্প “আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বিস্ময়কর, কার্যকর ও শক্তিশালী সামরিক প্রদর্শন” বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, “মাত্র অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সমস্ত সামরিক সক্ষমতাকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একজনও মার্কিন সেনা নিহত হননি, একটি সরঞ্জামও হারাইনি। অসংখ্য হেলিকপ্টার, বিমান এবং বিপুল সংখ্যক সেনা এই অভিযানে যুক্ত ছিল।”

মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানকে তিনি “স্পেকটাকুলার অ্যাসল্ট” বলে বর্ণনা করেন। কারাকাসের “ভারি সুরক্ষিত সামরিক দুর্গে” এই অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন দৃশ্য মানুষ খুব কমই দেখেছে।” তাঁর মতে, লক্ষ্য ছিল একটাই—“স্বৈরাচারী মাদুরোকে বিচারের মুখোমুখি করা।”

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প এখনও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। পরিস্থিতির প্রতিটি আপডেটের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

Share this news on:

সর্বশেষ

img
২০ বছর পর চট্টগ্রামে যাবেন তারেক রহমান Jan 08, 2026
img
জিয়া ও খালেদার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন Jan 08, 2026
img
খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বহ্নিশিখা : কবীর ভূঁইয়া Jan 08, 2026
img
৩৬০ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে পিএসএলের ২ দলের মালিকানা বিক্রি করল পিসিবি Jan 08, 2026
img
স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন ঢাবির ৪ শিক্ষক Jan 08, 2026
img

সুনামগঞ্জ-২ আসন

পাবেল চৌধুরীর মনোনয়নে দিরাই-শাল্লা বিএনপি উজ্জীবিত Jan 08, 2026
img
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা Jan 08, 2026
img
মুদ্রা ছাপাতে প্রতি বছর ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা : গভর্নর Jan 08, 2026
img
সচিবালয় কমিশনে সদস্য হবেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি: প্রেস সচিব Jan 08, 2026
img
রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না : রবিউল আলম Jan 08, 2026
img
ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল বাংলাদেশ Jan 08, 2026
img
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে মিত্রদের থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ম্যাক্রোঁ Jan 08, 2026
img
নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী দাখিল না করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে: ইসি Jan 08, 2026
img
ভেনেজুয়েলায় বাণিজ্যের সুযোগ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখা যেতে পারে Jan 08, 2026
img
'জুলাই বার্তাবীর' অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশ টাইমসের সাবেক মোবাইল জার্নালিস্ট জুবায়ের প্রধান Jan 08, 2026
img
কোচ পরিবর্তন করেও জয় পেল না ইউনাইটেড Jan 08, 2026
img
এবার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে শ্রীলীলা! Jan 08, 2026
img
গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি Jan 08, 2026
img
মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে দিল্লিতে তীব্র অস্বস্তি Jan 08, 2026
img
ভ্রমণে গিয়ে তৈমুর ও জেহকে ছবি তোলার শিষ্টাচার শেখাচ্ছেন কারিনা কাপুর Jan 08, 2026