মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন জোর দিয়ে বলেন যে, তার দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে অসম্মান করার দৃষ্টিভঙ্গি ‘সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য’। উভয়পক্ষের মধ্যে ‘মৌলিক পার্থক্য’ রয়ে গেছে, তবে সংলাপ অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার ডেনমার্ক ও এর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর এই বৈঠকের মাধ্যমে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর করার আশা করেছিলেন তারা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং স্পষ্টতই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা পোষণ করছেন। তিনি জানান, ডেনমার্ক পরিষ্কারভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়েছে যে এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের স্বার্থে নয় এবং গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলটি দখল করা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।
ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন। কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আফগানিস্তান ও বিতর্কিত ইরাক যুদ্ধে আমেরিকান সেনাদের পাশে থেকে প্রাণও দিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে উপেক্ষা করা যেকোনো ধারণাই সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তবে আলোচনার পথ খোলা রাখতে উভয় পক্ষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে, যা সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে দেখবে বলে জানান রাসমুসেন।
এর আগে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় ন্যাটোর সমর্থন পাওয়া উচিত, যদিও ইউরোপের প্রধান মিত্ররা সবাই ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ড ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
বৈঠকের পর মোটজফেল্ডের সাথে এক যৌথসংবাদ সম্মেলনে রাসমুসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘স্পষ্ট ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। ডেনমার্ক বিশ্বাস করে যে গ্রিনল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই-অর্থাৎ ১৯৫১ সালে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা এবং ন্যাটো চুক্তি সম্পর্কিত মার্কিন-ডেনমার্ক চুক্তি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
সূত্র: সিজিটিএন
পিএ/টিএ