গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রসংস্কারকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করেছে। তাই ড. ইউনূস বলেছেন- দেশের চাবি এখন আপনার হাতে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, যেহেতু প্রার্থীরা নিজের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, তাই সরকারি ব্যবস্থায়, সরকারি অর্থায়নে গণভোটের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চলছে। নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে আমি হয়তো অফিশিয়ালি প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবো না। গণভোট যেহেতু সরকার প্রচার চালাচ্ছে, আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব এজন্য বলবো এই সংস্কারের পক্ষে আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
বিএনপির সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবনযাপন করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। তাই আমরা তাকে ও বিএনপিকে নেতৃত্বে রেখে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। সে সময় বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল-যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে একসঙ্গে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে যে মৌলিক চিন্তাভাবনা, যে ৩১ দফা ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ পুনর্গঠনের জন্য জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়ই সেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সে কারণেই আমরা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছি।
প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশের সংকটকালে তিনি আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতও বলেছেন-খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল। আমাদের সৌভাগ্য, আমরা এমন একজন মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। ৫ আগস্টের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে বলেছিলেন-‘ইউনূস ভালো মানুষ, তাকে তোমরা সহযোগিতা করো এবং সবসময় সততার পথে রাজনীতি করবে।’
এ সময় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পিএ/টিএ