চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন মেট্রোপলিটন (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিন তদারকি করেন তিনি।
এসময় সিএমপি কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে মোতায়েনকৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে তিনি সিসিটিভি মনিটরিং, টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (অর্থ ও প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দলীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর তিনি চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান।
দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রত্যাশা। নগরীর প্রধান সড়ক, মোড় ওন অলিগলিতে ব্যানার–ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা।
মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজারের বেশি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল মঞ্চ। আয়োজকদের দাবি এই মঞ্চে একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসতে পারবেন। মঞ্চের সামনে রাখা হচ্ছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার।
মাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহৃত হবে প্রায় ২০০টি মাইক। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ সমতল করা হয়েছে, চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড।
মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরী রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে- রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।
ইউটি/টিএ