আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

অবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারই (২২ জানুয়ারি) সংস্থাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহার কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইনের লঙ্ঘন বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই এক নির্বাহী আদেশে ডব্লিউএইচও ছাড়ার নোটিশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ার আগে এক বছরের নোটিশ দেওয়া এবং বকেয়া সব চাঁদা পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেনি।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার কারণে ডব্লিউএইচও যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ এই সংস্থাকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছে। ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচওকে কোনো তহবিল, সহায়তা বা সম্পদ দেওয়া স্থগিত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট প্রয়োগ করেছেন।’

তবে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া দেশটির জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পুরো বিশ্বের জন্যও ক্ষতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ডব্লিউএইচওতে ফিরে আসবে।

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ লরেন্স গোস্টিন মত দিয়েছেন, বকেয়া পরিশোধ না করে সংস্থা ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের লঙ্ঘন। তবে তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত এর জন্য কোনো বড় আইনি পরিণতির মুখে পড়বে না।

ডব্লিউএইচও-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান একটি বড় বাজেট সংকট তৈরি করেছে। সংস্থাটির মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশই এত দিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে এসেছে। ফলে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা দল অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বছরের মাঝামাঝি নাগাদ প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রত্যাহার বৈশ্বিক রোগ নজরদারি, প্রতিরোধ ও জরুরি স্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান কেলি হেনিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার যৌথ কাঠামোকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।

আইকে/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img

খাল খনন, কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডসহ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

৭ জেলায় নির্বাচনী সমাবেশ শেষে ভোরে ঢাকায় ফিরলেন তারেক রহমান Jan 23, 2026
img
হাসপাতালের বেড শুয়ে ছবি পোস্ট, নিজের অবস্থা জানালেন রণিতা Jan 23, 2026
img
হাত মেলাতে গিয়েই বিপত্তি! মদিনীপুরের অনুষ্ঠানে 'হেনস্তা'র শিকার স্নিগ্ধজিৎ Jan 23, 2026
img
ইইউর সঙ্গে ‘উচ্চাভিলাষী’ নিরাপত্তা-প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, আগামী সপ্তাহে স্বাক্ষর Jan 23, 2026
img
লন্ডনে নারীর জীবন বাঁচালেন ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন Jan 23, 2026
img
রমজানে মসজিদের বাহিরে মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সৌদির Jan 23, 2026
img
আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র Jan 23, 2026
img
হৃতিকের রহস্যময় অনুরোধ, দুশ্চিন্তায় অনুরাগীরা Jan 23, 2026
img
রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করল ফ্রান্স, নাবিকেরা ভারতীয় Jan 23, 2026
img
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে: তারেক রহমান Jan 23, 2026
img
জুলাই-পরবর্তী কার্যক্রম দেখে ভোট দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের Jan 23, 2026
img

নরসিংদীতে তারেক রহমান

করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ Jan 23, 2026
img
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই সম্ভব নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Jan 23, 2026
img
সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন Jan 23, 2026
img
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ : লুৎফুজ্জামান বাবর Jan 23, 2026
img
সেরা হওয়া সত্ত্বেও অস্কার ট্রফিতে আগ্রহ নেই হলিউড অভিনেত্রীর Jan 23, 2026
img
বুকে চাদর জড়িয়ে শীতের সকালে রোদ স্নান! Jan 23, 2026
img
জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশে অস্ত্রসহ আটক ২ Jan 23, 2026
img
জান্নাতের টিকিটের নামে ধোঁকাবাজি মানুষ বুঝে গেছে : কামরুল হুদা Jan 23, 2026
img
৭১-এর স্বাধীনতা ২৪-এ রক্ষা হয়েছে : তারেক রহমান Jan 23, 2026